
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত বেশিরভাগ সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম। এছাড়া রায়ের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিক্রিয়ার খবর রয়েছে আজকের পত্রিকাগুলোতে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শতাধিক নারীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হলেও কারোর রায়ই কার্যকর হয়নি। এমনকি গাজীপুরের কাশিমপুরে থাকা একমাত্র নারী কারাগারে নেই কোনো ফাঁসির মঞ্চও।
কারা সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ অবধি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়নি। দেশের একমাত্র নারী কারাগারেও ফাঁসির কোনো মঞ্চ নেই।
কারাগারটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তৎকালীন সাবেক আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জাকির হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতে কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়নি বলে রাখা হয়নি ফাঁসির মঞ্চ।
এক হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর মুক্তি পেয়েছেন, কেউ কেউ মারা গেছেন, কারো আপিলে শাস্তি কমেছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ কালের কণ্ঠকে জানান, সারা দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ফাঁসির আসামি হিসেবে ৯৪ জন নারী বন্দি রয়েছেন

‘মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আলোচিত ৪৮ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান’ বণিক বার্তার শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গতকাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের সাবেক সরকারপ্রধানদের মধ্যে তিনিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হলেন।
শেখ হাসিনা ছাড়াও বিভিন্ন কালপর্বে বিশ্বের অন্তত ৪৭ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ইতিহাস, রাজনীতি ও ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়।
তবে দণ্ডপ্রাপ্ত সবার রায় কার্যকর হয়নি। অনেকে রায় ঘোষণার আগে দেশ থেকে পালিয়েছেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের আবার সাজাও হ্রাস পেয়েছে। এ-যাবৎ বিভিন্ন পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৩৫ জনের।

‘জুলাই হত্যায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’ এটি সমকালের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার এক রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। অপর আসামি মামলার রাজসাক্ষী পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায় প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে এই সাজা দেওয়া হয় বলে ট্রাইব্যুনাল রায়ে জানান।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সাজার পাশাপাশি হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের দেশে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। দুই আসামিই বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
অপর আসামি আবদুল্লাহ আল-মামুন রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে ছয়টি অংশ ছিল। রায় ঘোষণার কার্যক্রম ট্রাইব্যুনাল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

‘আট জেলায় ছয় যানবাহন ও তিন প্রতিষ্ঠানে আগুন’ প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা প্রথম মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র আট জেলায় ছয়টি যানবাহনে
আগুন দেওয়া হয়েছে। আগুন দেওয়া হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানে। এক স্থানে ককটেল নিক্ষেপে আহত হয়েছেন দুজন। গত রোববার রাত থেকে গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে গত আট দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে ৪২টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাসের সংখ্যা ৩৪টি, পিকআপ ৩টি ও অ্যাম্বুলেন্স ২টি। মানিকগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন স্কুলবাসের দগ্ধ চালক। এ নিয়ে চলমান অগ্নিসহিংসতায় দুই বাসচালকের মৃত্যু হলো।
এর বাইরে গতকাল শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বিকেলে গোপালগঞ্জে মিছিল ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তা ভন্ডুল হয়ে যায়।
ঢাকার ধামরাই ও সাভার উপজেলায় রোববার রাতে এক ঘণ্টার মধ্যে দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

আন্দোলন দমাতে শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় বিশেষ আদালত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তার আস্থাভাজন গুলির নির্দেশদাতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
তাদের মধ্যে অনেকেই এখন ভোল পাল্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দফতরে পদায়ন, উপদেষ্টার একান্ত সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বহাল রয়েছেন।
গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম দিকে কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দমন করতে সারা দেশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাদের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানো হয়।
বিভিন্ন বাহিনীতে থাকা সরকারের অনুগত লোকদের নামিয়ে দেওয়া হয় রাস্তায়। অহিংস এই আন্দোলন ক্রমান্বয়ে সহিংস রূপ নেয় ১৫ জুলাই থেকে।

‘প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরতের আহ্বান’ মানবজমিনের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় বাংলাদেশ। এ নিয়ে আজ-কালের মধ্যে দিল্লিতে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রচারিত বিবৃতিতেও প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টি স্মরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের তরফে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজকের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল। তাই আমরা (সরকার) ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই- তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে।
রায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান সরকারিভাবে ভারতকে জানাবো। চিঠিটি সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালে যেভাবেই হোক, পাঠানো হবে।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম ‘Jubo Dal leader shot dead in Pallabi shop’. খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাম কিবরিয়া একটি হার্ডওয়্যার দোকানে প্রবেশ করার কয়েক সেকেন্ড পরই হেলমেট পরা তিনজন সেখানে প্রবেশ করেন। তারা কিবরিয়াকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়েন এবং দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পল্লবীর সি ব্লকের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে কিবরিয়ার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোকসেদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা ঘটনা তদন্ত করছি।’

‘বিরোধিতার মুখেই লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের চুক্তি সই’ এটি ইত্তেফাকের শিরোনাম।
খবরে বলা হচ্ছে, শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) অব্যাহত বিরোধিতার মুখেই চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালের দায়িত্ব দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিল অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই চুক্তি করা হয়েছে। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প।
প্রকল্পটি ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটির নির্মাণ, অর্থায়ন ও পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বেসরকারি অংশীদারদের ওপর থাকবে।
অন্যদিকে ঢাকার অদূরে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইটিসি) পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ’র ২২ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এদিকে অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) নেতৃবৃন্দ। নইলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন তারা।

