
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়নে অতীতে কখনোই অসন্তোষ, কোন্দল দেখা না গেলেও এবার তা দেখা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-৫ (সদর), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রকাশ্য বিরোধ, ঘোষিত প্রার্থীকে লাঞ্ছনা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং বিক্ষোভ দেখা গেছে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে তৃণমূলের আপত্তিতে প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫, গাজীপুর-৬ আসন নিয়ে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। কুমিল্লার দুটি আসনেও অসন্তোষের গুঞ্জন রয়েছে।
দলীয় শৃঙ্খলা সম্পর্কে অতটা অবগত না থাকা সমর্থক পর্যায়ের কিছু লোক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করেছে দাবি করে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, জামায়াত এগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনের পক্ষে বিএনপি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে করা বিএনপির আপিল শুনানি শেষ হয়েছে গতকাল বুধবার। বিএনপির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন যেন বর্তমান সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে কোনও আইন বা রায় সব সময় পরবর্তী সময় থেকে কার্যকর হয়।
তাই আদালতের যে সিদ্ধান্তই আসুক, তা যেন আগামী নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকে কার্যকর হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া করেছে।
এই খসড়া পাশ হলে আদালতের অনুমোদন ও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আড়িপাতা বা যোগাযোগে নজরদারি করা যাবে।
খসড়ার ধারা ৯৭ ও ৯৭(খ) অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বা অপরাধ তদন্তের প্রয়োজনে আদালত বা অনুমোদিত কাউন্সিলের নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যোগাযোগ, বার্তা বা ট্রাফিক তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।
এ কার্যক্রমের জন্য গঠন করা হবে কেন্দ্রীয় আইনানুগ ইন্টারসেপশন প্ল্যাটফর্ম (সিএলআইপি), যা পরিচালিত হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
এই ধারার আওতায় গঠিত কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কার্যক্রম নতুন সিএলআইপি প্লাটফর্মে প্রতিস্থাপিত হবে।

এই খবরে বলা হয়েছে, সরকারঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী সেনাবাহিনীও চায় দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
নির্বাচন হলে দেশের স্থিতিশীলতা আরও ভালো হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেনাবাহিনীও ব্যারাকে ফিরে যেতে পারবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে সেনাসদরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
ওই সময়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচনের যেটুকু রূপরেখা প্রণয়ন করেছে, সেটার ওপর ভিত্তি করে সেনাবাহিনী যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলেও জানানো হয় সেনাসদরের সংবাদ সম্মেলনে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর চান্দগাঁওয়ে গণসংযোগ করার সময় একদল অস্ত্রধারী তার ‘পাশে থাকা’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে (৪৩) লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তাতে ঘটনাস্থলেই বাবলার মৃত্যু হয়।
আর বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
গণসংযোগে ‘পরিকল্পিত’ হামলাকে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক নেতারা।
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এরশাদ উল্লাহ হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন না। ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে’ তিনি আহত হন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনও সম্পর্ক নেই। বিএনপির প্রার্থী জনসংযোগ করার সময় সেখানে শত শত লোক অংশ নেন। সরোয়ার সেখানে অংশ নিলে সন্ত্রাসী দুটি দলের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে তাকে গুলি করা হয়।’

এই খবরে বলা হয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও গণভোট নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতায় পৌঁছাতে সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের তিন দিন পার হয়ে গেছে।
জামায়াতসহ কয়েকটি দল এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে রেফারির ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানালেও বেশিরভাগ দল মনে করে, সরকারকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সরকারের সিদ্ধান্ত দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে দলগুলো।
এই ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব ঘোচাতে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ৯টি রাজনৈতিক দল। এ উদ্যোগে গণতন্ত্র মঞ্চের ছয়টি দলের সঙ্গে আছে এনসিপি, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ।
সমঝোতার প্রয়োজনে এই দলগুলোর বেশিরভাগই একইদিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রাখতে সম্মত বলে জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, একীভূত হতে যাওয়া দেশের শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর দায়দায়িত্ব নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রশাসকের পাশাপাশি ব্যাংক পরিচালনায় চারজন করে কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারাই ব্যাংকগুলো পরিচালনা করবেন।
একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
এর মধ্যে এক্সিম ছাড়া বাকি চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে।
এই পাঁচ ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম আগের মতো চলবে। প্রত্যেক আমানতকারী এখন চাইলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলে নিতে পারবেন। বড় আমানতকারীরা কবে টাকা তুলতে পারবেন, সেটি পরে গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।’
সব আমানতকারী দল বেঁধে টাকা তুলতে গেলে পৃথিবীর কোনও ব্যাংকই টিকে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর জোটবদ্ধ নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান চূড়ান্ত করায় মূলত জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যদিও ইসলামী দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসন সমঝোতা হতে পারে।
গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সমমনা ৮ দল।
আসন্ন নির্বাচনে এসব দল জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে, এমনটাই ভাবা হচ্ছিল এতদিন। দলগুলোর নেতারাও এমন আভাস দিচ্ছিলেন।
তবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে।
এছাড়া, জামায়াত-এনসিপির সাম্প্রতিক টানাপড়েন, জোট হলেও দলীয় প্রতীকে ভোট করতে হবে, ইসির এমন নীতিমালার প্রভাবও পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল সিলেটে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত কোনও জোট গঠন করতে যাচ্ছে না, তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে।
একই সুরে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমও।

এই খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। প্রথম মুসলমান হিসেবে তার এ জয়।
তরুণ ও স্বল্প আয়ের ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হলেন জোহরান মামদানি।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নিজ দল ডেমোক্র্যেটিক পার্টির অভিজাতদের একটি বড় অংশের তীব্র বিরোধিতাকে ছাপিয়ে জয় পেয়েছেন তিনি।
তার এ বিজয় দেশটির জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিচ্ছে।
মামদানি ছাড়াও ভার্জিনিয়া ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গভর্নর পদে নির্বাচনেও উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবিগেইল স্প্যানবার্গার ও মিকি শেরিল রিপাবলিকান প্রার্থীদের হারিয়েছেন।
এ ব্যর্থতা রিপাবলিকানদের জন্য আগামী বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ধরাশায়ী হওয়ার ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচন ছিল ‘খুব নাটকীয়’। এটা রিপাবলিকানদের জন্য ‘ভালো ছিল না’। এই নির্বাচন থেকে তারা অনেক কিছু শিখেছেন।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম— Pilot error behind Milestone crash: probe; অর্থাৎ পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটিতে মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত: তদন্ত্র প্রতিবেদন।
এই খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে পাইলটের উড্ডয়নে ত্রুটির কারণে। বিমানটি আকাশে ওড়ার পর চালক এটি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন।
গত ২১ জুলাই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৩৬ জন নিহত হন। যার মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে জানান, জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ঢাকার বাইরে পরিচালনা করাসহ ৩৩ টি সুপারিশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

