সদ্য বিদায়ী বছর ২০২৫-এ দেশ জুড়ে ৬ হাজার ৭২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে ১৪ হাজার ৮১২ জন। আর দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেলে ২ হাজার ৪৯৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এতে মারা গেছে ২ হাজার ৯৮৩ জন। আহত হয়েছে ২ হাজার ২১৯ জন; যা মোট নিহতের ৩২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গতকাল রবিবার ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’ সড়ক দুর্ঘটনার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনা-২০২৪-এর তুলনায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া সড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় নিহত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আহত বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। তিনি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকারের দাবি করেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে সড়ক, রেল ও নৌপথে ২০২৫ সালে ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে মারা গেছে ৯ হাজার ৭৫৪ এবং আহত হয়েছে ১৫ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৫১৩টি। এতে মারা গেছে ৪৮৫ এবং আহত হয়েছে ১৪৫ জন। এ ছাড়া নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং নিখোঁজ রয়েছে ৩৮ জন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরও বলেন, এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ২৮৮টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এগুলোর মধ্যে ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাস, ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা, ২৬ শতাংশ যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ অন্যান্য কারণ, শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যালোচনা আরও বলছে, দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২২ শতাংশ মহাসড়কে, ২৭ দশমিক ১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে হয়েছে। এ ছাড়া দেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪ দশমিক ২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সংবাদের প্রকৃত চিত্র গণমাধ্যমে কম আসছে এবং সেগুলো তুলে আনা যাচ্ছে না।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিদায়ী বছরে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও এসব যানবাহন অবাধে চলাচলের কারণে মহাসড়কে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ, আঞ্চলিক মহাসড়কে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *