পকসো আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে কোনও নাবালিকা আইনগতভাবে বৈধ সম্মতি দিতে সক্ষম নয়, কারণ একটি শিশু যৌন সম্পর্কের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে না। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজশেখর মৈত্র ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ শিয়ালদা আদালতের ২০১৮ সালে দেওয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় ও সাজা বহাল রাখে।

২০১৮ সালে শিয়ালদা আদালত ওই ব্যক্তিকে ধর্ষণ ও পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানার সাজা দিয়েছিল। জরিমানার ৯০ শতাংশ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে নাবালিকা ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের বয়স ছিল ২৩ এবং ১৪ বছর বয়সী ওই মেয়ের সঙ্গে তাঁর শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে অভিযুক্ত এই সম্পর্ককে “প্রেমের সম্পর্ক” বলে দাবি করে এবং অভিযোগ করে যে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পর মেয়েটি প্রতিশোধ হিসেবে অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে আদালত তাঁর যুক্তি আপাতভাবে বাতিল করে দেয়।

মামলার নথি অনুসারে, ২০১4 সাল থেকে অভিযুক্তের সঙ্গে নাবালিকার সম্পর্ক ছিল। সে সময় মেয়েটির বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রথমবার তাঁদের মধ্যে যৌনসম্পর্ক হয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে ঘটনা প্রকাশ পায়। ভুক্তভোগীর বাবা, যিনি রিকশাচালক, এবং মা, যিনি গৃহকর্মী, নরকেলডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মেয়েটি আদালতে জানিয়েছে, গর্ভধারণের কথা অভিযুক্তকে জানাতেই সে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে।

রায় ঘোষণার সময় হাই কোর্ট উল্লেখ করে, অভিযোগ দায়েরের দেরি হওয়া স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক, কারণ নাবালিকা অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল এই আশায় যে তিনি একদিন তাকে বিয়ে করবেন। আদালত মন্তব্য করে—“একটি শিশু যৌন সম্পর্কের পরিণতি বুঝতে পারে না। তাই কখন অভিযোগ দায়ের হয়েছে তা গৌণ বিষয়; কারণ নাবালিকার উপর অভিযুক্তের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর যৌন আক্রমণের প্রমাণ সুস্পষ্ট।”

ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক বা কথিত সম্মতি কোনওভাবেই অভিযুক্তকে দায়মুক্ত করতে পারে না, কারণ নাবালিকার সম্মতি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে যাবজ্জীবন সাজা বহাল থাকে এবং জরিমানার ৯০ শতাংশ ভুক্তভোগীর হাতে পৌঁছানোর নির্দেশও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

এই রায় পুনরায় মনে করিয়ে দিল—নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে ‘সম্মতি’ শব্দটি আইনগতভাবে মূল্যহীন, এবং নাবালিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পকসো আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

আরও পড়ুন: মালদহে ১৯২ শূন্যপদে বড়সড় নিয়োগ: কমিউনিটি হেলথ অফিসারসহ একাধিক পদে আবেদন শুরু



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *