লোকসভায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্বস্তি বেড়েছে দিল্লি থেকে কলকাতা পর্যন্ত। তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। এবার কোচবিহারের জনসভা থেকে নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কার্যত তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্য—“বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বললেন ‘বঙ্কিমদা’। যেন মনে হল শ্যামদা, হরিদা! যিনি জাতীয় গান রচনা করেছিলেন, তাঁকে এইটুকু সম্মানও দিলেন না! আপনাদের তো জনগণের কাছে মাথা নিচু করে নাকখত দেওয়া উচিত। তাতেও ক্ষমা হবে না।”

এসআইআর ঘিরে উত্তেজনার আবহে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন ও মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে ফের জেলাসফরে বেরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার কোচবিহারে পৌঁছে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাশমেলার মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন একাধিক ইস্যুতে। এর মধ্যেই বঙ্কিমচন্দ্রকে ভুল সম্বোধনের প্রসঙ্গ ওঠে। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে অবমাননা করার প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “দেশের সংস্কৃতি, আন্দোলন এবং ইতিহাসকে অসম্মান করা হচ্ছে। বাংলার মনীষীদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে না।”

মমতা আরও বলেন, রাজা রামমোহন রায় ও ক্ষুদিরাম বসুর মতো মনীষীদের নিয়ে বিজেপির মন্তব্য বাংলার মানুষ বরদাস্ত করবে না। তাঁর অভিযোগ—“রামমোহন রায়কে বললেন তিনি নাকি দেশপ্রেমী নন, ক্ষুদিরামকে বলা হল সন্ত্রাসবাদী, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হল। মানুষ এর জবাব দেবে।”

এই বিতর্কের সূত্রপাত সোমবার, লোকসভায় বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর উপলক্ষে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করলে। এরপরই তৃণমূল সাংসদরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই বক্তৃতায় তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী পুলিনবিহারী দাসকে ‘পুলিন বিকাশ দাস’ এবং মাস্টারদা সূর্য সেনকে ‘মাস্টার সূর্য সেন’ বলে উল্লেখ করেন। এসব মন্তব্যের সময়ই বিরোধী বেঞ্চ থেকে ক্ষোভের সুর শোনা যায়।

পরদিন, মঙ্গলবার সংসদের বাইরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিসহ মৌন প্রতিবাদে বসেন তৃণমূল সাংসদরা। সামাজিক মাধ্যমেও শাসকদলের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ বিস্তার লাভ করেছে।

কোচবিহারের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে পরিষ্কার—বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ নয়, বরং বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে অসম্মান করার অভিযোগকে তিনি আরও জোরালোভাবে সামনে আনলেন। লোকসভায় এই বিতর্ক যে আরও তীব্র হবে, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: লোকসভায় ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে আলোচনা: বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলায় আপত্তি সৌগত রায়ের, সংশোধন করে নিলেন প্রধানমন্ত্রী



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *