দক্ষিণবঙ্গে এখনো শীত পুরোপুরি নামেনি। তবে শীতের আমেজ মানেই বাঙালির নলেন গুড়। খেজুরের রস থেকে তৈরি এই সুগন্ধি গুড় শুধু স্বাদেই অনন্য নয়, অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরও। ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, দস্তা ও লোহায় ভরপুর নলেন গুড় শীতকালের আদর্শ পুষ্টিকর খাবার।
লোহা থাকার কারণে নলেন গুড় রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি পূরণে কার্যকর। প্রাকৃতিক ক্লিনজারের মতো কাজ করে এটি শরীরকে ভেতর থেকে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন খাবারের পর অল্প নলেন গুড় খেলে শরীর সতেজ থাকে, এনার্জি ড্রিঙ্কের প্রয়োজনও কমে যায়। পাশাপাশি এতে থাকা ‘লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
নলেন গুড়ের স্বাস্থ্য উপকারিতা
১. অ্যানিমিয়া রোধে কার্যকর
নলেন গুড়ে প্রচুর পরিমাণে লোহা থাকায় নিয়মিত খেলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা কমে।
২. হজমশক্তি বাড়ায়
প্রাকৃতিক শোধনকারী হিসেবে কাজ করে নলেন গুড়। খাবার হজমে সাহায্য করে, পেটের গণ্ডগোল কমায়।
টিপস: সকালে খালি পেটে গরম জলের সঙ্গে নলেন গুড় খেলে টক্সিন দূর হয়।
৩. ঠান্ডা-কাশি ও গলা ব্যথায় উপকারী
নলেন গুড় শরীর গরম রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গলা ব্যথা ও ঠান্ডা লাগার সমস্যা এড়াতে সাহায্য করে।
৪. অ্যাজমা রোগীদের জন্য উপকারী
অ্যান্টি-অ্যালার্জিক গুণ ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার জন্য অ্যাজমায় উপকার দেয়।
৫. ঋতুস্রাবের ব্যথা কমায়
নলেন গুড় শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ বা ফিলগুড হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে।
৬. জয়েন্ট পেইন ও মাইগ্রেনে উপকারী
এক টুকরো আদার সঙ্গে নলেন গুড় খেলে জয়েন্ট পেইন ও মাইগ্রেনের সমস্যা কমে।
৭. হাড় মজবুত করে
নলেন গুড়ে থাকা ক্যালশিয়াম হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: বায়ুদূষণে মহামারীর আকার নিচ্ছে সিওপিডি, মহিলারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে, জানাচ্ছে গবেষণা
