সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ঐতিহাসিক সাফল্যের গৌরব নিয়ে বীরের বেশে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। সাউথ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের বরণ করা হয়েছে ছাদ খোলা বাসে। পরে দেয়া হয়েছে সংবর্ধনা। আর সেখানেই দেশবাসীকে শিরোপা উৎসর্গ করলেন অধিনায়ক মিঠু। বললেন, ‘এই ট্রফি আপনাদের জন্য। শুধু আপনাদের জন্য।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফুটবলারদের জন্য বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছে বাফুফে ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, সাফজয়ী প্রত্যেক ফুটবলারকে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেবে বাফুফে। আর ডিএনসিসি প্রত্যেক ফুটবলারকে দেবে ৫০ হাজার টাকা। ৬ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া দিবসে এই পুরস্কার তুলে দেবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

মালদ্বীপে আসরের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে ট্রফি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৪৯ মিনিট দেরিতে দেশের মাটিতে পা রাখলেও অপেক্ষমাণ সমর্থকদের উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি।

বিমানবন্দরে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বাফুফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। তারা পুষ্পস্তবক ও উষ্ণ করতালির মধ্য দিয়ে শিরোপা জয়ীদের বরণ করে নেন।

বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই ফুটবলাররা চড়ে বসেন তাদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা সুসজ্জিত ছাদখোলা বাসে। চ্যাম্পিয়নদের একনজর দেখতে এবং অভিনন্দন জানাতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশে ভিড় জমান শত শত ফুটবল প্রেমী মানুষ। হাতে জাতীয় পতাকা আর মুখে বিজয়ের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে রাজপথ। ফুটবলাররাও বাসের ওপর থেকে হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জবাব দেন।

নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজধানীর অন্যতম নান্দনিক স্থান হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে পৌঁছায় বাসটি। সেখানেই আয়োজিত হয় মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

৯টা ৪০ মিনিটে এম্ফিথিয়েটারে পৌঁছায় দল। সবার আগে এম্ফিথিয়েটারে প্রবেশ করেন কোচ মার্ক কক্স। ট্রফি উঁচিয়ে ধরে কোচকে অনুসরণ করেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী। বিমানবন্দরে দলকে বরণ করে নেওয়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরেক দফা খেলোয়াড়দের অভ্যর্থনা জানান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ সংস্থাটির কর্মকর্তারাও ছিলেন।

মঞ্চে নিজের অনুভূতি জানান কোচ মার্ক কক্স। ইংলিশ কোচ বাংলায় বলেন, ‘সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয় বাঙালি, বাংলাদেশ।’

এরপর নিজ ভাষায় বলেন, ‘বাফুফে সভাপতি আপনাকে ধন্যবাদ, সুন্দর এই আয়োজনের জন্য। আমি আমার স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, এই লোকগুলো না থাকলে এই সাফল্য আসত না। প্রতিটি ছেলে তাদের সবটুকু দিয়ে বাংলাদেশের জন্য খেলেছে। ১৯৭১ সালের স্পিরিট… যেটা আপনাদের ইতিহাস..সেটা দেখিয়েছে। আমরা এই সাফল্য আবারও নিয়ে আসব।’

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি মাঠে আসা দর্শকদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান বাফুফে সভাপতি তাবিথ। যুবাদের সামনের পথচলা মৃসণ করতে সরকারি, বেসরকারিভাবে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাফুফে প্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের চ্যাম্পিয়ন ভাইয়েরা ও চ্যাম্পিয়ন কোচিং স্টাফ সবাইকে সালাম। শুরুতেই বলতে চাই, আমাদের মাঠে ১১ জন খেলোয়াড়ের সাথে ১২তম খেলোয়াড় ছিলেন আপনারা, দর্শকরা। প্রতিটি মুহূর্তে মালদ্বীপ থেকে আমাদের মনে হয়নি… আমরা দেশেই আছি। থাইল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, মালদ্বীপে-সব জায়গাতেই আপনারা একটা বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশ আর থামবে না। বাংলাদেশ আর পিছে নামবে না। ধন্যবাদ সব দর্শকদেরকে।’

‘বার্তাটা খুব পরিষ্কার। এটা সবে শুরু। ফাইনাল জিতেছি, ট্রফিটা বাংলাদেশে এসেছে, কিন্তু আরও ট্রফি আসার যে সংস্কৃতি আমরা দেখতে চেয়েছি, যেটার যাত্রা আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। অতীতে আমাদের নারী দল বাছাই পেরিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা এশিয়ান কাপে খেলব। আজকে আমরা ইয়ুথ দলকে দেখছি…আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।’

‘আমি বারবার বলে আসছি, আমাদের অনেক ঘাটতি আছে, কিন্তু ওরা যেভাবে খেলছে, যে পর্যায়ে খেলছে এবং দেশকে প্রতিদান দিচ্ছে, সে তুলনায় আমরা কিন্তু তাদের রিসোর্স দেওয়ার ধারে কাছেও নেই। আজও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসে, পৃষ্ঠপোষকরা এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে খেলোয়াড়দের জন্য আমরা ভালো একটা ফ্যাসিলিটিজ তৈরি করতে চাই। তখনই কেবল আমরা ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা করতে পারব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *