খবর অনলাইন ডেস্ক: বলিউডের স্বর্ণযুগের তিন কিংবদন্তি—দেব আনন্দ, জিনত আমন ও রাজ কপূরকে ঘিরে পুরনো এক বিতর্ক আবার নতুন করে আলোচনায়। দেব আনন্দের আত্মজীবনী ‘রোমান্সিং উইথ লাইফ’-এ (Romancing with Life) জিনত আমন ও রাজ কপূরকে নিয়ে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। দেব আনন্দের মৃত্যুর বহু বছর পরে জিনত প্রকাশ্যে সেই দাবি অস্বীকার করেন। এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দেব আনন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোহন চুরিওয়ালা।

ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহন চুরিওয়ালা বলেন, দেব আনন্দ কখনও কারও সম্পর্কে মিথ্যা কথা লেখেননি। তাঁর মতে, আত্মজীবনীতে জিনত আমন সম্পর্কে যা লেখা হয়েছে, তা দেব আনন্দের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিরই প্রতিফলন। মোহন প্রশ্ন তোলেন, ২০০৭ সালে বইটি প্রকাশের পর দেব আনন্দ জীবিত ছিলেন আরও চার বছর। তখন জিনত আমন কেন প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেননি?

মোহনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণা’ ছবির শুটিং চলাকালীন দেব আনন্দ জিনত আমনের প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাজ হোটেলে ডিনারের মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে একটি পার্টিতে রাজ কপূর ও জিনত আমনের ‘অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ’ আচরণ দেব আনন্দকে আঘাত করে। মোহন বলেন, পার্টিতে জিনত আমন যখন রাজ কপূরের পায়ে হাত দেন এবং পরে দেব আনন্দের দিকে অস্বস্তির দৃষ্টিতে তাকান, তখনই দেব আনন্দের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়।

‘হরে রামা হরে কৃষ্ণা’ ছবিতে জিনত আমন ও দেব আনন্দ।

মোহনের দাবি, রাজ কপূর ও জিনত আমনের কথোপকথন—বিশেষ করে রাজ কপূরের জিনতকে শুধুই সাদা পোশাক পরার ‘প্রতিশ্রুতি’ মনে করিয়ে দেওয়া—দেব আনন্দকে বিশ্বাস করায় যে তাঁদের মধ্যে শুধুই পরিচালক-অভিনেত্রীর সম্পর্ক ছিল না। দেব আনন্দ মনে করেছিলেন, অন্তত রাজ কপূরের সঙ্গে জিনতের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তাঁকে আগেই জানানো উচিত ছিল।

মোহন আরও বলেন, দেব আনন্দ পার্টি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় জিনত আমন ও রাজ কপূর দু’জনেই তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, সেই মুহূর্তে রাজ কপূরের আচরণে দেব আনন্দ অপরাধবোধের আভাসও পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, জিনত আমান ২০২৩ সালে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে দেব আনন্দের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি লেখেন, দেব আনন্দ ছিলেন তাঁর অনেক বয়সি মেন্টর, যাঁর প্রতি তাঁর ছিল প্ল্যাটোনিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। রাজ কপূরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিত তিনি অপমানজনক ও যন্ত্রণাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। বইটি তিনি কখনও পড়েননি বলেও জানান জিনত।

এই বিতর্ক আজও দুই বিপরীত স্মৃতি ও অনুভূতির সংঘাতে আটকে আছে—একদিকে দেব আনন্দের লেখা আত্মজীবনী, অন্যদিকে জিনত আমনের প্রকাশ্য প্রতিবাদ। সত্য কোনটা, তা হয়তো ইতিহাসই বিচার করবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *