দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল যখন ভয়াবহ বায়ুদূষণের কবলে, ঠিক সেই সময়ই সামনে এল উদ্বেগজনক তথ্য। দেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও বোর্ডগুলিতে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পদে প্রায় ৪৫ শতাংশ শূন্যতা রয়েছে। সংসদে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই রয়ে গেছে।

৮ ডিসেম্বর লোকসভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ জানান, দেশের শীর্ষ দূষণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডে (CPCB) বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পদে ১৬.২৮ শতাংশ শূন্যতা রয়েছে। তিনি এই তথ্য দেন সিপিআই(এম) সাংসদ রথনভেল সচিথানন্দমের প্রশ্নের উত্তরে।

সাংসদের প্রশ্ন ছিল, সিপিসিবি এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডগুলিতে (SPCB) পরিবেশ ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী-সহ মাঠ পর্যায়ের কর্মীর তীব্র ঘাটতি রয়েছে কি না এবং সেই শূন্যপদ পূরণে সরকারের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা আছে কি না।

মন্ত্রী জানান, সিপিসিবি ছাড়াও দেশে রয়েছে ২৮টি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং ৮টি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (PCC), যেগুলি মূলত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে কাজ করে। এই সব সংস্থায় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পদের মোট অনুমোদিত সংখ্যা ৬,৯৩২। এর মধ্যে ৩,১৬১টি পদ ফাঁকা, অর্থাৎ শূন্যতার হার ৪৫.৬ শতাংশ

সংখ্যার হিসাবে,

  • সিপিসিবিতে ৩৯৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৬৪টি শূন্য,
  • রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডগুলিতে ৬,১৩৭টি পদের মধ্যে ২,৯২১টি শূন্য,
  • আর পিসিসিগুলিতে ৪০২টি পদের মধ্যে ১৭৬টি পদ ফাঁকা

তবে এই বিপুল শূন্যতার দায় কেন্দ্র কার্যত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ঘাড়েই চাপিয়েছে। কীর্তি বর্ধন সিংহ সংসদে বলেন, “রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটিগুলি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেখানে শূন্যপদ পূরণের দায়িত্ব রাজ্য সরকার বা ইউটি প্রশাসনেরই।”

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ভয়াবহ দূষণ, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস বাধ্যতামূলক

এই সমস্যা নতুন নয়। গত অন্তত পাঁচ বছর ধরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলিতে শূন্যপদের হার ৪৪ থেকে ৫১ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে একাধিক সংসদীয় নথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চলতি বছরের মার্চে সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তখন সারা দেশে এসপিসিবি ও পিসিসিগুলিতে মোট শূন্যপদের হার ছিল প্রায় ৪৯ শতাংশ

ওই তথ্যানুসারে, দেশের ২৮টি রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মধ্যে ১২টির শূন্যতার হার ছিল ৫০ শতাংশের বেশি। সিকিমে শূন্যতা ছিল ১০০ শতাংশ, ঝাড়খণ্ড ও অন্ধ্রপ্রদেশে ৭০ শতাংশেরও বেশি পদ ফাঁকা ছিল। বড় রাজ্যগুলির মধ্যে কেরালাই একমাত্র রাজ্য, যেখানে শূন্যতার হার ১০ শতাংশের নিচে। অন্যদিকে দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে শূন্যতা প্রায় ৪৪.৫ শতাংশ, আর লাদাখ, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউয়ে তা ৬৯ শতাংশ

পরিবেশবিদদের মতে, এমন অবস্থায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নজরদারি ও আইন কার্যকর করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। দূষণ যখন জাতীয় সংকট, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির এই কর্মী-সংকট পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *