খবর অনলাইন ডেস্ক: ভারতের সাম্প্রতিক টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল ব্যাটিং প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে গুয়াহাটিতে ৪০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে সিরিজও হাতছাড়া করেছে রোহিত শর্মার দল। পর পর দু’বছরে দ্বিতীয়বারের মতো ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশের এই লজ্জা ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের এক গভীর সংকটকেই সামনে তুলে ধরেছে।

গম্ভীরের অধীনে ব্যাটিং গড়ে ধস

গৌতম গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ১৯টি টেস্টে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সাত ব্যাটারের সম্মিলিত গড় নেমে এসেছে মাত্র ৩৬.১০ – ২১তম শতাব্দীতে কোনো ভারতীয় কোচের অধীনে সর্বনিম্ন। ডানকান ফ্লেচার (৩৬.৬৬) অথবা রাহুল দ্রাবিড় (৩৭.৪১)— কারও আমলেই গড় এতটা নীচে নামেনি।

শাস্ত্রী-কোহলি যুগে এই গড় ছিল ৩৮.৭৩, আর গ্যারি কার্স্টেনের অধীনে ভারতের সোনালি সময়টিতে তা ছুঁয়েছিল ৪৮.৬৭ — যা নিঃসন্দেহে বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপগুলোর অন্যতম।

হোম সিরিজেও চিত্র হতাশাজনক। ঘরের মাঠে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সাত ব্যাটারের গড় ৩৩.৩৯, যা এই শতকে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। কার্স্টেন বা শাস্ত্রীযুগে যেখানে এই পরিসংখ্যান ছিল ৫০-এর ঘরে, সেখানে গম্ভীরের আমলে ব্যাটিং ভেঙে পড়ছে নিয়মিত।

এ যেন এক অনিশ্চয়তার পরিবেশ

পুজারাকে বাদ দেওয়ার পর থেকে ভারত এখনও স্থায়ীভাবে একজন নম্বর ৩ ব্যাটার খুঁজে পায়নি। গত দু’বছরে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ৭ জন ব্যাটারকে পরখ করা হয়েছে— শুভমন গিল, বিরাট কোহলি, সাই সুদর্শন, দেবদত্ত পড়িক্কল, লোকেশ রাহুল, করুণ নায়ার ও ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো নাম।

এঁদের সম্মিলিত গড় ৩১.৯১। পুজারার কেরিয়ারের শেষ দিকে যে ব্যাটিং গড় ছিল, এটি তার চেয়েও কম। গম্ভীর-যুগে ভিন্ন ভিন্ন ইনিংসে ব্যাটারদের হঠাৎ নীচে নামানো বা ওপরে তুলে দেওয়া, কিংবা ব্যাটারের কী ভূমিকা তা পরিষ্কার করে না বলা — এসব নিয়ে দলে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার পরিবেশ।

ঘরোয়া ক্রিকেট: কথায় গুরুত্ব, কাজে নয় 

গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকার বারবার ঘরোয়া পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অভিমন্যু ঈশ্বরন, করুণ নায়ার, সরফরাজ খান, বাবা ইন্দ্রজিৎ — ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পরেও ধারাবাহিক সুযোগ পাচ্ছেন না।

ঘরোয়া ক্রিকেটে টন টন রান করেও জাতীয় দলে জায়গা না-পাওয়া এ সব ক্রিকেটারকে দেখে প্রশ্ন উঠছে— নির্বাচনে কি আইপিএল-সাফল্যই বেশি ওজন পাচ্ছে?

ব্যাটিং ধসের তিনটি কারণ

ভারতের ব্যাটিং ধসের পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও উল্লেখযোগ্য তিনটি বিষয় হল—

  • ব্যাটিং অর্ডারে অনবরত বদল
  • টেকনিকের জায়গায় আক্রমণাত্মক মানসিকতাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব
  • ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিক পারফরমারদের অবহেলা

ধারাবাহিকতা, পরিকল্পনার স্বচ্ছতা এবং যথাযথ ব্যাটিং প্রস্তুতি ছাড়া ভারতের টেস্ট ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন

হার্মারের ঘূর্ণিতে ভারত ছিন্নভিন্ন! রানের হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সর্বকালের লজ্জাজনক হার



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *