রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দু’দফাতেই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতি দফায় প্রায় ২৫০০ কোম্পানি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। অর্থাৎ প্রতিটি দফায় প্রায় আড়াই লক্ষ জওয়ান রাজ্যে দায়িত্ব পালন করবেন।

কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, কোন বুথ স্পর্শকাতর, কত বাহিনী প্রয়োজন—এই সব বিষয় নিয়ে বুধবার রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। জেলা থেকে রিপোর্ট আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এবার ভোটে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একাধিক নতুন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। শুধু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই নয়, বুথ এলাকার বাইরে কোনও অশান্তি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটারদের হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। ছাপ্পা, বুথ দখল বা অশান্তির মতো কোনও ঘটনাই বরদাস্ত করা হবে না।

এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের চিহ্নিত করে সেইসব এলাকায় রুট মার্চ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতায় ইতিমধ্যেই রুট ম্যাপ তৈরি করে বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী শহরে পৌঁছে গিয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে রুট মার্চ।

নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নাকা চেকিংয়েও আনা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এবার প্রথমবার নাকা চেকিংয়ে লাইভ স্ট্রিমিং চালু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক পিটিজেড ক্যামেরা, যা ৩৬০ ডিগ্রি কভার করতে সক্ষম এবং চলমান বস্তুকে ট্র্যাক করতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতেও এই ক্যামেরা বসানো হবে।

শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেওয়া হবে বডি ক্যামেরাও। প্রতিটি কোম্পানিতে দুই থেকে তিনটি করে বডি ক্যামেরা থাকবে, যার মাধ্যমে জওয়ানদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনীর জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একটি বুথে চারজন এবং দুটি বুথ থাকলে আটজন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভোট ঘোষণার আগেই ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে এবং বুথে বুথে রুট মার্চও সম্পন্ন হয়েছে।

এখন কোন জেলায় কত বাহিনী মোতায়েন হবে, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *