শিলিগুড়ি: দার্জিলিং চায়ের মতোই পাহাড়ি কমলার সুনাম দেশজোড়া। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও লড়াইয়ের পর সেই দার্জিলিং কমলাই এবার পেল জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ। কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের এই স্বীকৃতি প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে পাহাড় থেকে সমতলে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই কমলা রপ্তানির কাজে নেমে পড়েছে। শিলিগুড়ির দৈনিক নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি বুধবার কার্শিয়াংয়ের বাগান পরিদর্শনে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই প্রথম লটে প্রায় ৪৫০ কেজি কমলা পাঠানো হতে পারে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাজারে।
দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণীশ মিশ্র জানিয়েছেন, পাহাড়ি কমলার চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর সেই চাহিদা আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষের কাছে পাহাড়ের কমলা পৌঁছে দিতে প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই কমলা কিনছে, যাতে চাষিরাও ন্যায্য দাম পান। কৃষি বিপণন দপ্তরও কমলা সংগ্রহ করে বিভিন্ন সুফল বাংলা স্টলে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
দার্জিলিং জেলা ভৌগোলিকভাবে অনন্য—পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে গঠিত এই জেলার অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করে চা ও কমলা চাষের উপর। দার্জিলিং চা বহু আগেই জিআই ট্যাগ পেয়েছে। এবার কমলাও সেই গৌরব পেল। ২০২১ সালে উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কমলার জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন করে। ২০২২ সালের ২২ আগস্ট আবেদন গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালে শুনানিতে মিরিকের কমলাও প্রদর্শিত হয়। খসড়া প্রস্তাব প্রকাশের পর চার মাসে কোনও আপত্তি জমা না পড়ায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই ট্যাগ মেলে।
উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তুলসীস্মরণ ঘিমিরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দার্জিলিং কমলার স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় সরকার সেই স্বীকৃতি দেওয়ায় পাহাড়ের কৃষকদের পরিশ্রম এবার সার্থক হল। স্থানীয় কৃষকদের মতে, দার্জিলিং কমলার তিনটি ধরন রয়েছে—গুটি, মাঝারি ও বড়। পাতলা খোসা, কোয়ার সঙ্গে খোসার লেগে থাকা এবং অতিরিক্ত মিষ্টতার জন্যই এর স্বাদ অনন্য। এই কমলাগুলি কখনও ফাঁপা হয় না, যা বাজারে বিশেষ কদর বাড়ায়।
গত শীতকালে পাহাড় থেকে মোট ২৬৮৭ কেজি কমলা দক্ষিণবঙ্গে পাঠানো হয়েছিল ১০ টাকা পিস দরে। এবার প্রথম লটে ৪৫০ কেজি কমলা কেনা হবে ১২ টাকা পিস দরে। গোটা মরশুমে কয়েক দফায় আরও কমলা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর কমলার বাজার আরও প্রসারিত হবে, কৃষকের আয় বাড়বে—এমনটাই আশা করছে প্রশাসন ও কৃষি মহল। দার্জিলিং চায়ের পরে কমলাও পাহাড়ের অর্থনীতিতে নয়া দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনলাইনে দার্জিলিংয়ের কমলা কিনতে হলে এখানে ক্লিক করুন।
