অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যুর এক সপ্তাহ পরও ধোঁয়াশা কাটেনি। কী ভাবে তালসারির সমুদ্রে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনও প্রশ্নের শেষ নেই। এই পরিস্থিতিতে তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন টলিপাড়ার তারকারা।

শনিবার বিকেলে বিচারের দাবিতে একত্র হন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী-সহ একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী। উপস্থিত ছিলেন রাহুলের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-ও।

এর পর শনিবার রাতেই প্রিয়াঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে দিঘার কাছে তালসারিতে পৌঁছন প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণারা। এর আগেই রিজেন্ট পার্ক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি তালসারি থানায় ব্যক্তিগত ভাবে এফআইআর দায়ের করেন প্রিয়াঙ্কা।

পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগে মোট পাঁচ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা Magic Moments Motion Picture Private Limited-এর কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। এছাড়াও পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং সংস্থার ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এফআইআরে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর দাবি, তালসারিতে শুটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থারও চরম গাফিলতি ছিল। পরিকল্পিত অবহেলা এবং বিপজ্জনক পদ্ধতিতে শুটিং পরিচালনার ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।

এছাড়া, রাহুলের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা নাকি ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়েছেন বলেও এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে প্রশ্ন উঠছে—অভিযোগ দায়ের করতে এত দেরি কেন? এ প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে ছিলেন। সেই কারণেই অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে মৃত্যু হয় রাহুলের। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জলে ডুবে মৃত্যুর কথা জানা গেলেও, সেই পরিস্থিতি কী ভাবে তৈরি হল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই রহস্যমৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে পরিবার-সহ টলিউডের বড় অংশ এখন সরব। তবে অভিযোগের পরেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি প্রযোজনা সংস্থা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *