ডলারের তুলনার টাকার পতন অব্যাহত। সোমবার ২৬ পয়সা পড়ে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯০.৭৫-এ পৌঁছল ভারতীয় মুদ্রা। এর আগে গত শুক্রবার ডলারের তুলনায় টাকা নেমেছিল ৯০.৫৫-এ। ফলে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছল দেশের মুদ্রা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক চেনা সমস্যাই ফের চেপে ধরেছে টাকাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতে দেরি, বিদেশি লগ্নির প্রবাহ দুর্বল থাকা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি—সব মিলিয়ে টাকার উপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি কর্পোরেট সংস্থাগুলির ডলার চাহিদা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডলারের তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে টাকা। বিশ্বের ৩১টি প্রধান মুদ্রার মধ্যে এই মুহূর্তে টাকার অবস্থান তৃতীয় সর্বনিম্ন। শুধুমাত্র তুরস্কের লিরা এবং আর্জেন্টিনার পেসো টাকার চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এই সময়ের মধ্যেই ডলার সূচক (ডলার ইনডেক্স) ৭ শতাংশের বেশি কমেছে, যা টাকার পতনকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০-এর গণ্ডি পেরনো প্রতীকী দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০১১ সালে টাকার যে মূল্য ছিল, তার অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছে গেল বর্তমান বিনিময় হার। এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার উপর চাপ বাড়ছে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একদিকে মুদ্রার নমনীয়তা বজায় রাখা, অন্যদিকে আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

গত কয়েক মাসে টাকার পতন ঠেকাতে বারবার হস্তক্ষেপ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে ৮৮.৮০ স্তর ভাঙার পর এবং বিশেষ করে ৯০ টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলার পর সেই হস্তক্ষেপের তীব্রতা কিছুটা কমেছে বলেই বাজারের ধারণা।

আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার লেনদেনে এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আরবিআই। ডলার-নির্ধারিত নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড (এনডিএফ) বাজারে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে টাকাকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টসের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও লন্ডনের মতো প্রধান আর্থিক কেন্দ্রে থাকা একাধিক বড় ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

সব মিলিয়ে, টাকার এই ঐতিহাসিক পতন আগামী দিনে দেশের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং আর্থিক বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে অর্থনৈতিক মহল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *