খবর অনলাইন ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে রানের বন্যা বইয়ে দিয়েও এবারের টি২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের টিকিট পেল না পাকিস্তান। শাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরি ও ফকর জামানের ৪২ বলে ঝড়ো ৮৪ রানের ইনিংস এবং প্রথম উইকেটে তাদের রেকর্ড গড়া জুটি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পাঁচ রানে জয় এনে দিল বটে, কিন্তু সেমিফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট ছিল না। নেট রানরেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল নিউজিল্যান্ড।
রেকর্ড গড়া ওপেনিং জুটি
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ ছিল কঠিন—সেমিফাইনালে উঠতে হলে জিততে হত প্রায় ৬৫ রানে। শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন ফারহান ও ফকর। দু’জনে মিলে ১৫.৫ ওভারে যোগ করেন ১৭৬ রান, যা টি২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি।
ফারহান ৫৯ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি — এটি ছিল টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় শতক। এক আসরে একাধিক সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটার তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভেঙে দেন বিরাট কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ২০১৪ বিশ্বকাপে কোহলি করেছিলেন ৩১৯ রান; ২০২৬-এ ফারহান শেষ করলেন ৩৮৩ রানে।
ফকরও ছিলেন সমান তেজি। মাত্র ২৭ বলে ৫০ পূর্ণ করেন তিনি। পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৬৪। কিন্তু শেষ চার ওভারে মাত্র ৩৫ রান তুলতে গিয়ে ৭ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ফলে সম্ভাব্য ২২০–এর বেশি রান না হয়ে থামে ৮ উইকেটে ২১২-তে।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৮ রান। অবিশ্বাস্য কাণ্ড প্রায় ঘটিয়ে ফেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ছবি ‘এক্স’ থেকে নেওয়া।
নাসিম-আবরারের আঘাত
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে নাসিম শাহ তৃতীয় বলেই উইকেট নেন। এর পর আবরার আহমেদের ঘূর্ণিতে চাপে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। আবরার নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
তবে কামিল মিশারা, পবন রথনায়েকে ও দাসুন শানাকা পাল্টা আক্রমণ চালান। ১৬তম ওভারে শ্রীলঙ্কা ১৪৮ রান ছুঁয়ে ফেলায় পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়।
শানাকার অবিশ্বাস্য ঝড়, তবু নাটকীয় সমাপ্তি
শেষ চার ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৫৩ রান। শানাকা একাই ম্যাচ জমিয়ে তোলেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির প্রথম চার বলে আসে ৪, ৬, ৬, ৬—সমীকরণ দাঁড়ায় ২ বলে ৬ রান।
পঞ্চম বলটি অফস্টাম্পের অনেক বাইরে গেলে শানাকা রিভার্স স্কুপ করতে গিয়ে মিস করেন। শেষ বলে আবারও ওয়াইডের আশায় বল ছেড়ে দেন তিনি। সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, কিন্তু আম্পায়ার ওয়াইড দেননি। ৩১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থেকেও দলকে জেতাতে পারলেন না শানাকা। পাঁচ রানের রুদ্ধশ্বাস জয়ে ম্যাচ জিতলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হল পাকিস্তানকে।
‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ ফারহান
রানের পাহাড় গড়েও শেষ হাসি হাসতে পারেনি পাকিস্তান। ফারহান-ফখরের রেকর্ড জুটি ইতিহাসে জায়গা করে নিলেও বড় ব্যবধানে জিততে না পারায় সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায়। অন্যদিকে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে সম্মানজনক লড়াই উপহার দিল শ্রীলঙ্কা। এ দিন ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ হলেন শাহিবজাদা ফারহান।
