মুম্বই: সপ্তাহের শেষে বড় ধাক্কা ভারতীয় অর্থনীতিতে। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ডলারের নিরিখে সর্বকালীন নিচে নেমে গেল ভারতীয় টাকার দাম। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে, এক ডলারের দাম ৯২ টাকার গণ্ডি প্রায় ছুঁয়ে ফেলার উপক্রম। গত ছয় মাসের মধ্যে এই সপ্তাহে টাকার দামে সবচেয়ে বড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
রেকর্ড পতন ও পরিসংখ্যান শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় টাকার দাম দাঁড়ায় ৯১.৯৪-এ। তবে দিনের একটা সময় তা ৯১.৯৬৫০ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। অর্থাৎ ৯২ টাকা ছুঁতে আর মাত্র কয়েক পয়সার অপেক্ষা। এই একদিনেই টাকার দাম পড়েছে ০.৩৪ শতাংশ। গোটা সপ্তাহের হিসেবে এই পতন ১.১৮ শতাংশ এবং চলতি মাসে মোট ২.৩ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে ভারতীয় মুদ্রা।
কেন এই ধস? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের মূল কারণ বিদেশি বিনিয়োগের বহির্গমন (Foreign Outflows)। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। পাশাপাশি, টাকার দাম আরও পড়ার আশঙ্কায় আমদানিকারক বা ইম্পোর্টাররা আগেভাগেই ডলার কিনে রাখছেন (Hedging)। উল্টোদিকে, রফতানিকারকরা বা এক্সপোর্টাররা ফরোয়ার্ড মার্কেটে ডলার বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে ডলারের জোগান কমে চাপ বাড়ছে টাকার ওপর।
বিশেষজ্ঞের মত মেকলাই ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট কুণাল কুরানি বলেন, “২০২৫ সাল জুড়ে যা দেখা গিয়েছিল, এখনও সেটাই চলছে। বিশ্ব বাজারের সংকেত যা-ই হোক না কেন, ভারতীয় টাকা চাপের মুখেই থাকছে।” প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রা কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম ভারতীয় টাকা।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভূমিকা টাকার এই পতন রুখতে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ব্যাঙ্কারদের মতে, এই সপ্তাহে অন্তত দু’বার বড়সড় হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করে এবং ‘বাই/সেল সোয়াপ’ (Buy/Sell Swaps)-এর মাধ্যমে তারল্য বা লিকুইডিটি সামলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আরবিআই-এর এই চেষ্টা পতনের গতি কিছুটা কমালেও, মূল ট্রেন্ড বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে।
