এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ২১ নম্বর (সাবেক শেখ রাসেল হল) আবাসিক হলে রোববার মধ্যরাতে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে ৫৩ ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত ১৬ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট শাখা থেতে এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ নম্বর (ছাত্র) হলে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদেরকে র‍্যাগিং করার ঘটনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের নির্দেশক্রমে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’-এর ধারা ৪-এর (১) (খ) অনুযায়ী অভিযুক্ত ১৬ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

সাময়িক বহিস্কৃতরা হলেন- মো. তানভীর রহমান মুন, মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, আব্দুল্লাহ আল সাঈদ, মো. আবু তালহা রনি, রাজিব শেখ, এস এম মাহামুদুন্নবী, মো. আবু সাইদ, জান্নাতুল আদন, আহম্মেদ আরেফিন রাতুল, তাসনিমুল হাসান জুবায়ের, মো. মাহামুদুল হাসান ফুয়াদ, মো. আল হাসিব, মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. রাকিবুল হাসান নিবির, মো. জাহিদুল ইসলাম এবং উশান্ত ত্রিপুরা।

এছাড়াও অভিযোগ তদন্তের জন্য মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামানকে সভাপতি, সহকারী প্রক্টর ড. মো. আল-আমিন খানকে সদস্য এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চ শিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফকে সদস্য-সচিব করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২১ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‍্যাগিংয়ের ঘটনার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম ও ২১ নম্বর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বোরহান উদ্দিনকে অবহিত করে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন হলটির ৪০৩ নম্বর কক্ষে যায়। এসময় ২১ নম্বর হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি উল্লাহ আল-মাহদী, আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবরার শাহরিয়ার এবং হলের ২ জন কর্মচারীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

তাদের ভাষ্যমতে, অভিযানের শুরুতে কক্ষটির বাইরে ৫৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে পাহারারত অবস্থায় দেখা যায়। তিনি ভেতরে থাকা অভিযুক্তদের মুঠোফোনে খবর দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বাঁধা দেয় শিক্ষার্থীরা। পরে কক্ষটির ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় দরজা-জানালা বন্ধ করে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫৪ ব্যাচ) প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থীকে একই বিভাগের ৫৩ ব্যাচের প্রায় ১৬ জন র‍্যাগিং দিচ্ছিল। এসময় ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের সকলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একপাশে টেবিলের ওপর বন্ধ করে রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ভয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।

তবে কক্ষটিতে উপস্থিত ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আলোচনার জন্য জুনিয়রদের ডাকা হয়েছে। পাশের কক্ষে পরীক্ষার্থী থাকায় শব্দ এড়াতে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন তানভীর বলেন, পরীক্ষার কারণে আমরা নবীনবরণ অনুষ্ঠান করতে পারিনি। তাই আলোচনার জন্য জুনিয়রদের ডেকেছিলাম। র‍্যাগিংয়ের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশেদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ১৬ জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *