জানেন ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে হাওয়া হাওয়া গানের জন্য কত টাকা পেয়েছিলেন গায়ক হাসান জাহাঙ্গীর?

১৯৮৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল হাসান জাহাঙ্গীরের সেই কালজয়ী অ্যালবাম। তারপর থেকে দীর্ঘ চার দশক ধরে ‘হাওয়া হাওয়া’ গানের জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি। এবার সেই নস্টালজিয়াকেই বড় পর্দায় কাজে লাগালেন পরিচালক আদিত্য ধর। সম্প্রতি এআরওয়াই (ARY) ডিজিটালের রমজান বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শান-এ-সাহুর’-এ উপস্থিত হয়ে হাসান জাহাঙ্গীর জানান, বলিউডের হাই-বাজেট ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর নির্মাতারা তাঁর থেকে আগাম অনুমতি নিয়েছেন এবং যথাযথ সম্মানীয়ও প্রদান করেছেন।

হাসান জাহাঙ্গীরের কথায়, “হ্যাঁ, নির্মাতারা আমাকে ৫০ হাজার ডলার দিয়েছেন। তাঁরা কেবল অনুমতিই নেননি, নিয়ম মেনে পারিশ্রমিকও দিয়েছেন।” সঞ্চালিকা নিদা ইয়াসির যখন ‘ধুরন্ধর’ ছবিটির নাম উল্লেখ করেন, তখন হাসান জাহাঙ্গীর বর্তমান সময়ের কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব আইন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আগে এই ধরণের কপিরাইট সিস্টেম ছিল না। কিন্তু এখন আমার গান কেউ ব্যবহার করতে চাইলে আগে অনুমতি নেন এবং প্রাপ্য টাকাও দেন। ‘হাওয়া হাওয়া’ আমি ১৯৮৬ সালে রেকর্ড করেছিলাম এবং ৮৭-তে এটি লঞ্চ হয়েছিল। আজও এর আবেদন কমেনি।”

ছবিতে গানটির ব্যবহার অত্যন্ত শৈল্পিক। ‘ধুরন্ধর’-এ এসপি চৌধুরী আসলামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত। তাঁর এন্ট্রি সিকোয়েন্সেই বেজে ওঠে ‘হাওয়া হাওয়া’। ধবধবে সাদা মরুভূমির পটভূমিতে ড্রাগ পাচারকারীদের সঙ্গে সঞ্জয় দত্তের সেই অ্যাকশন দৃশ্য এবং নেপথ্যে বেজে ওঠা এই রেট্রো ট্র্যাক দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে।

কেবল হাসান জাহাঙ্গীরের গানই নয়, ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় ক্ল্যাসিক গান। এর মধ্যে রয়েছে উষা উথুপের ‘রাম্বা হো’, ‘বরসাত কি রাত’ ছবির ‘না তো কারওয়াঁ কি তালাশ হ্যায়’, এবং হেলেনের জনপ্রিয় নাচ ‘পিয়া তু আব তো আজা’। এছাড়া ‘না দে দিল পরদেশি নু’ বা ‘জোগি’ গানের একটি রিমিক্স ভার্সনও এই ছবিতে ঠাঁই পেয়েছে।

কপিরাইট নিয়ে এক সময় দুই দেশের সঙ্গীত জগতের মধ্যে যে টানাপোড়েন ছিল, হাসান জাহাঙ্গীরের এই স্বীকারোক্তি সেই সম্পর্কে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘ভুবন জয়ী’ গানের স্রষ্টা যে তাঁর যোগ্য সম্মান পেয়েছেন, তাতে খুশি দুই বাংলার অনুরাগীরাই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *