আমাদের দেশে শীতকাল স্বল্পস্থায়ী হলেও এ বছর যেন শীতটা জেঁকে বসেছে। ছেলেদের শীত পোশাকের ধরনেও এসেছে ভিন্নতা। শীতকালীন পোশাকের তালিকায় জনপ্রিয় চাদর, হুডি, সোয়েটার জ্যাকেট ও স্যুট দীর্ঘদিন ধরে রাজত্ব করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পোশাকগুলোর ফেব্রিকস, নকশা ও ডিজাইনে এসেছে নানা পরিবর্তন। শীত পোশাকে সঠিক ফেব্রিকস ও ডিজাইন বেছে  নিলে শীতের প্রতিটি দিন হতে পারে আরও আরামদায়ক ও স্টাইলিশ। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে চাদর

শীত পোশাক হিসেবে চাদর সববয়সীদের পাশাপাশি তরুণদেরও পছন্দ। ছেলেদের শীতের পোশাকে দীর্ঘদিনের পরিচিত অনুষঙ্গ হলো চাদর। গ্রাম কিংবা শহর সবখানেই এর ব্যবহার চোখে পড়ে। এ সময় বাজারে উলের চাদরের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে অ্যাক্রিলিক, উল-ব্লেন্ড, ফ্লিস ও কাশ্মীরি স্টাইলের চাদর। অ্যাক্রিলিক ও ব্লেন্ডেড উলের চাদর তুলনামূলক হালকা এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। এ বছর চাদরের নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে চেক ও স্ট্রাইপ নকশা, একরঙা মিনিমাল ডিজাইন। হালকা বর্ডার ও জ্যামিতিক মোটিফও কোনো কোনো চাদরে দেখা যাচ্ছে। রঙের ক্ষেত্রে হালকা ও গাঢ় দুটো রঙ এই প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে ধূসর, নেভি ব্লু, মেরুন, বাদামি ও অফ-হোয়াইট বেশি দেখা যাচ্ছে।

জাঁকালো শীতে দরকার জ্যাকেট

শীতকালে তরুণদের পছন্দের তালিকায় প্রাধান্য পায় জ্যাকেট। নানা ধরনের জ্যাকেট শীত নিবারণের মাধ্যম নয়, বরং ফ্যাশনের অংশও দাঁড়িয়েছে। দেশের আবহাওয়ার উপযোগী জ্যাকেটগুলোর মধ্যে রয়েছে পলিয়েস্টার প্যাডেড জ্যাকেট, ডেনিম জ্যাকেট, ফ্লিস ও সুয়েড ফেব্রিক ও সিনথেটিক লেদার। এসব জ্যাকেটে ভেতরে সাধারণত ফাইবার বা ফ্লিস লাইনিং দেওয়া থাকে। তবে এ বছরে বোম্বার, পাফার এবং হুডযুক্ত শর্ট জ্যাকেট ফ্যাশন ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। এসব জ্যাকেটের বিশেষত্ব হলো কম জিপ ও মিনিমাল পকেট ডিজাইন। আবার এমন অনেক জ্যাকেট আছে যার উভয় পাশই পরিধান করা যায়। কালো, অলিভ গ্রিন, নেভি ব্লু ও চারকোল গ্রে রঙের চাহিদা বেশি।

সোয়েটার দরকার ঘরে বাইরে

হাতে বোনা সোয়েটার এক সময় ছেলেদের পছন্দের শীর্ষে ছিল। এখন হাতে বোনার পাশাপাশি মেশিনে বোনা সোয়েটারেরও চাহিদা অনেক। হাফহাতা ও ফুলহাতা দুধরনের সোয়েটারই পাওয়া যায়। গোল গলা, ভি গলা, চিকন কলারের এসব সোয়েটারে নানা ডিজাইনের বোতাম, চেইনের ব্যবহার করা হয়। অল্প শীতে ফুলহাতা শার্টের সঙ্গে হাফহাতা সোয়েটার পুরনো ফ্যাশন হলেও পুরুষদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে আছে। এবারের শীতের পোশাকে গাঢ় রঙের সোয়েটারই বেশি দেখা যাচ্ছে। সি গ্রিন, ব্রিক রেড, অলিভ, অফ-হোয়াইট সোয়েটারের চল বেশি।

শীতের ফরমাল স্টাইল স্যুট

অফিস, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিয়ের দাওয়াতে শীতকালে স্যুটের ব্যবহার বেড়ে যায়। শীতের ফরমাল পোশাক হিসেবে অনেকেই স্যুটকে প্রাধান্য দেন। স্যুটের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হলো উল ও উল-ব্লেন্ড ফেব্রিক, টুইল, মোটা কটন ব্লেজার ফেব্রিক, এই ফেব্রিকগুলো উষ্ণতার পাশাপাশি পরিপাটি লুক দেয়। এ বছর স্যুটের কাটিংয়ে স্লিম ফিট ডিজাইন, ডাবল ব্রেস্টেড ব্লেজার এবং ন্যারো ল্যাপেল ও একরঙা স্টাইল বেশি দেখা যাচ্ছে। বাজারে যে রঙগুলো স্যুটে প্রাধান্য পায় তাহলো নেভি ব্লু, চারকোল গ্রে ও কালো রঙ সবচেয়ে জনপ্রিয়।

হুডির চাহিদা সবসময়

নব্বই দশকের ফ্যাশনে আসা হুডির চাহিদা কম বা বেশি শীতে সবসময়ই আছে। পুলওভার ও জিপ স্টাইল ছাড়া হুডির আছে আরও কয়েক ধরনের ডিজাইন। আবার মাফ বা বড় আকারের পকেট হুডি সিগনেচার স্টাইলে পরিণত হয়েছে। এ সময়ের হুডিতে উল, ডেনিমের মতো মোটা ও ভারী ফেব্রিক ব্যবহার করা হয়। পুলওভার হুডি, জিপ-আপ হুডি, ফিটেড হুডি, কালার ব্লক হুডি, রেগুলার হুডি, সিøভলেস হুডি, ক্রপড হুডি, ওভারসাইজড হুডি, অ্যাথলেটিক হুডি সবই শীত ফ্যাশন ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে।

কোথায় পাবেন ও দাম কত

চাদরের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা থেকে। ভালো মানের উলের চাদর পাওয়া যায় ২,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকার মধ্যে। নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, ইসলামপুর, বসুন্ধরা সিটি এবং যমুনা ফিউচার পার্কে চাদরের বড় সংগ্রহ রয়েছে। সাধারণ জ্যাকেটের দাম শুরু ১,৫০০ টাকা থেকে। উন্নতমানের জ্যাকেটের দাম ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এলিফ্যান্ট রোড, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, মিরপুর, বসুন্ধরা সিটি ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে জ্যাকেট সহজেই পাওয়া যায়। রেডি স্যুটের দাম সাধারণত ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা। কাস্টম টেইলারিং করলে দাম ১২,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড ও স্থানীয় টেইলার শপগুলোতে কাপড় কিনে তৈরি করে নিতে পারবেন। হুডি ব্র্যান্ড ও নকশা ভেদ ৭০০ থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে পাবেন। বসুন্ধরা সিটি, আজিজ সুপার মার্কেট, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডের মার্কেটে নানা ধরন ও ফেব্রিকসের হুডি পাবেন। বাজারে সোয়েটার আছে রকমারি। হাতে বোনা সোয়েটার কিনতে অনলাইন স্টোরগুলোতে যেতে হবে। মেশিনে বোনা সোয়েটার পাবেন চন্দ্রিমা মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, পলওয়েল মার্কেট। ডিজাইন ও মানভেদে সোয়েটারের দাম ৫০০ থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে।

কেনার সময়

চাদর একটু ভারি ও নরম ফব্রিকস হলে ভালো হয়।  জ্যাকেট কেনার সময় এর চেইন কেমন সেটা খেয়াল করে কিনুন। স্যুটের ফেব্রিকস যেন খুব ভারী না হয়। দেহের অবয়ব অনুযায়ী স্যুট ফিটিং করে নিতে হবে। দৈনন্দিন ব্যবহার ও অনুষ্ঠানের ধরন বুঝে স্যুট বাছাই করা উচিত।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *