খবর অনলাইন ডেস্ক: প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত চিকিৎসক মণি কুমার ছেত্রী আর নেই। রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পনেরো দিন আগে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর উদ্যোগেই সেখানে আধুনিক ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (আইটিইউ) গড়ে ওঠে। পাশাপাশি কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রিনোলজি, ডায়াবিটিস ও রিউম্যাটোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালু করার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা নেন—যা সেই সময় রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে চিকিৎসকমহল। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার রাজ্যের সমস্ত চিকিৎসক কর্মস্থলে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।
১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিঙে জন্মগ্রহণ করেন ডা. ছেত্রী। দার্জিলিং মিউনিসিপ্যালিটি প্রাইমারি স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪৪ সালে চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতক এবং ১৯৪৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়ে ১৯৫৫ সালে লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিসিয়ানস থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজি ও ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার ফেলোশিপ অর্জন করেন তিনি।
দেশে ফিরে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালে (বর্তমান এসএসকেএম) কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে যোগ দেন।
চিকিৎসাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার।
