চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জে এক যুবদল নেতাকে তাঁর নিজ রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার কাটাবাড়িয়া এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার লতিবাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদকে প্রধান অভিযুক্ত করে ৬ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী যুবদল নেতা বাবুলের বাবা মো. হাদিস মিয়া।
আহত বাবুল অভিযোগ করে জানান, চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম শহীদের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা তাকে রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক বিএনপির একটি চক্র আওয়ামী লীগের লোকজনকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে এবং টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। সম্প্রতি তাঁর দোকান থেকে ৬ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি থানায় অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ শাহ আলম বলেন, বাবুলকে তার রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় ফিল্মি কায়দায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়ে একটি হাত ও একটি পা ভেঙে দেওয়া হয়। আমরা অবিলম্বে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, তার সঙ্গে বাবুলের কোনো বিরোধ নেই এবং তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তিনি দাবি করেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



