গোয়ার আর্পোরায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর পর দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া দিল্লির দুই রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ভাই—সৌরভ ও গৌরব লুথরা—থাইল্যান্ডে আটক হয়েছেন।

ফুকেটে স্থানীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সময় তাঁদের হাত বাঁধা এবং হাতে পাসপোর্ট ধরা অবস্থায় দেখা যায়, যেটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ‘রোমিও লেন’ রেস্তোরাঁ চেনের মালিক এই দুই ভাই ভারতের ২২টি শহর এবং চারটি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করেন।

গত শনিবার তাঁদের ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন লাগার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়। ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা দিল্লি থেকে উড়ে যান থাইল্যান্ডে। এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রত্যর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র মতে, একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লুথরা ভাইদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে।

শনিবার রাতে আর্পোরার ওই ক্লাবে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান চলছিল। প্রায় ১০০ জন অতিথি, যাঁদের বেশিরভাগই পর্যটক, আনন্দউল্লাসে মেতে ছিলেন। নৃত্যশিল্পী ও সংগীতশিল্পীরা বলিউড গানের সঙ্গে পারফর্ম করছিলেন, এবং সেই সময় বৈদ্যুতিক আতসবাজি ব্যবহার করা হচ্ছিল—তদন্তকারীরা মনে করছেন সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু যা একটি ছোট বিচ্যুতি হওয়ার কথা ছিল, তা মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পরিণত হয় কারণ ক্লাবটির সাজসজ্জায় প্রচুর দাহ্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল।

সেখানে কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল না, অ্যালার্মও কাজ করছিল না। উপরন্তু, ক্লাবের প্রবেশপথের পাশের সরু রাস্তায় দমকলের ইঞ্জিন ঢুকতে না পারায় প্রায় ৪০০ মিটার দূরে গাড়ি রেখে দমকলকর্মীদের হেঁটে পৌঁছতে হয়েছে। এর ফলে উদ্ধারকাজে বড় দেরি হয়। যখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, ততক্ষণে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে—যাঁদের মধ্যে পাঁচজন পর্যটক এবং ২০ জন কর্মচারী। অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ায় এবং তাঁদের দেহ বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার পর গোয়ার রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পর্যটন মরশুমে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। চারজন কর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং লুথরা ভাইদের খোঁজে দিল্লি পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে গোয়া পুলিশ। দিল্লি পুলিশও তদন্তে যোগ দেয়। বাড়িতে হানা দিতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা বিদেশে পালানোর জন্য টিকিট কেটে ফেলেছিলেন। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়িক অংশীদার অজয় গুপ্তাকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডে আটক হওয়ার আগে লুথরা ভাইরা দিল্লি আদালতে একটি আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন, যাতে বলা হয়েছে তাঁরা ভবনের মালিক নন, কেবল লাইসেন্সধারী। তাঁদের দাবি, তাঁরা থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে এবং পালানোর উদ্দেশ্যে নন। তাঁরা আদালতের কাছে চার সপ্তাহের ট্রানজিট আগাম জামিনও চেয়েছেন যাতে দেশে ফিরেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার না করা হয়। পাশাপাশি তাঁরা দাবি করেছেন যে ঘটনাটি ঘটার সময় তাঁরা ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে মৃতদের পরিবারের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে যে দোষীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। গোয়ার পর্যটনমুখর পরিবেশে এমন বিপর্যয় রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া ফেলেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *