গাজা উপত্যকার হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ হামলা চালানো হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় শেজাইয়া এলাকায় দু’জন এবং পাশের জেইতুন এলাকায় চারজন নিহত হয়েছেন। আরও এক হামলায় দক্ষিণের খান ইউনুসের পশ্চিমে মাওয়াসি এলাকায় চারজন নিহত হন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, প্রায় ছয় সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামাস যোদ্ধারা তাদের সেনাদের ওপর গুলি চালানোর পর গাজাজুড়ে হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর কেউ আহত হয়নি।

বারবার গুলিবর্ষণ যুদ্ধবিরতির দুর্বলতা সামনে আনছে। যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত এই যুদ্ধবিরতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজায় যুদ্ধোত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য পক্ষ দু’টি একে অপরকে দায়ী করছে।

চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী ও ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তিনটি হামলাই ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণ এলাকার মধ্যকার সমঝোতাপূর্ণ কথিত ‘হলুদ রেখা’র অনেক বাইরে হয়েছে। জেইতুনে হামলা চালানো হয় মুসলিম ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ভবনে, আর খান ইউনুসের হামলা হয় জাতিসংঘ পরিচালিত এক ক্লাবে, উভয় স্থানেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল।

গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি দুই বছরের গাজা যুদ্ধকে অনেকটা থিতিয়ে দিয়েছে। এতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি গাজার ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন। ইসরায়েল শহুরে অবস্থান থেকে সেনা সরিয়েছে এবং ত্রাণ প্রবাহ বেড়েছে।

তবুও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। এর প্রায় অর্ধেকই নিহত হয়েছেন গত সপ্তাহে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *