কলকাতা: দ্রুত পরিবর্তনশীল নাগরিক জীবনে কলকাতার বাসিন্দাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আদিত্য বিড়লা এডুকেশন ট্রাস্টের উদ্যোগ ‘এমপাওয়ার’ (Mpower)-এর অভ্যন্তরীণ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা, অবসাদ এবং মেজাজ হারানোর মতো সমস্যায় ভুগছেন শহরের বহু মানুষ।
তরুণ ও কর্মজীবীরাই বেশি আক্রান্ত: এমপাওয়ারের সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, পড়াশোনা ও কাজের চাপ, আর্থিক দায়িত্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং একাকিত্বের মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণার রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী (০-১৭ বছর), তরুণ প্রজন্ম (১৮-২৫ বছর) এবং কর্মজীবী মানুষের (২৬-৪৯ বছর) মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? কলকাতার ‘এমপাওয়ার সেন্টার’-এর প্রধান ডাঃ প্রীতি পারেখ জানান, অনেকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগের নাম না জানলেও ক্লান্তি, মানসিক ভারাক্রান্ততা এবং অতিরিক্ত চাপের অনুভূতি নিয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আগে যেভাবে মানুষ প্রতিকূল পরিস্থিতি সামলাতে পারতেন, এখন আর তা পারছেন না।
– বিজ্ঞাপন –
সচেতনতায় ‘আর্ট থেরাপি’: লোকলাজ্জা বা সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে অনেকেই পেশাদার সাহায্য নিতে দেরি করেন। এই বাধা কাটাতে এমপাওয়ার সম্প্রতি কলকাতায় একটি ‘আর্ট থেরাপি’ কর্মশালার আয়োজন করেছিল, যেখানে সৃজনশীলতার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতে তাদের বিভিন্ন পরিষেবা ও হেল্পলাইনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ১.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে মুম্বই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা ও দিল্লি-সহ ভারতের সাতটি শহরে ২০০-র বেশি প্রশিক্ষিত পেশাদার নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করে চলেছে এমপাওয়ার। তাদের লক্ষ্য ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে একটি কলঙ্কমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।
