২০১৪ সালের টেট–এর ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক অবশেষে স্বস্তি পেলেন। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, তাঁদের চাকরি বাতিল করা যাবে না। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে আদালত মন্তব্য করে—“নয় বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করার পর হঠাৎ চাকরি বাতিল করলে পরিবারগুলির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।”

যদিও আদালত এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নিয়োগ–দুর্নীতির তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা সেই তদন্তই করবে। অর্থাৎ চাকরি বহাল থাকলেও দুর্নীতির দায় কার, তা খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী এদিন বলেন, “চাকরিপ্রার্থীদের কোনও দোষ নেই। কর্তৃপক্ষের ভুল বা অনিয়মের জন্য নিরীহ চাকরিজীবীরা শাস্তি পেতে পারেন না। এই রায় সেই ন্যায়বোধকেই প্রতিষ্ঠা করেছে।”

টেট মামলার ইতিহাস বলছে, ২০১৬ সালে প্রায় ৪২,৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। পরে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৩ সালের মে মাসে সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল, যদিও তখনও তাঁদের কর্মরত থাকতে বলা হয়েছিল এবং নতুন নিয়োগ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে পর্ষদ ডিভিশন বেঞ্চে যায়। মামলা পরে সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে ফের হাই কোর্টে ফিরে আসে সম্পূর্ণ শুনানির জন্য।

সব পক্ষের যুক্তি শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়—চাকরি থাকবে, তবে তদন্ত চলবে।

ফলে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ দিনের অস্থিরতা কিছুটা কাটল, কিন্তু নিয়োগ–দুর্নীতি নিয়ে আইনি লড়াই যে শেষ হয়নি, তা স্পষ্ট।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *