ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করল কেপ ভার্দে। দেশটির জাতীয় ফুটবল দল সোমবার এসওয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
প্রাইয়ার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে গোলগুলো করেন ডায়লন লিভ্রামেন্তো, উইলি সেমেদো এবং স্টপিরা। জয় নিশ্চিত করে আফ্রিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ‘ডি’ গ্রুপে শীর্ষে থেকে টুর্নামেন্টে জায়গা পায় পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপদেশটি।
সরকার ম্যাচের দিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করে। প্রথম গোলের পর থেকেই সারা দ্বীপজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। কেপ ভার্দে এখন আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে যোগ দিয়েছে—ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ, আইসল্যান্ডের পর (যাদের জনসংখ্যা ৩.৪ লাখ)।
কেপ ভার্দে চার পয়েন্টে পিছিয়ে রেখে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্যামেরুনকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে উঠে আসে। সোমবার ক্যামেরুন নিজেদের মাঠে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে।
এর আগে লিবিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলের ড্রয়ের কারণে আগেই যোগ্যতা নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল কেপ ভার্দে। তবে শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করেই তারা ইতিহাস গড়ে।
গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে একমাত্র ম্যাচ হারে ক্যামেরুনের মাঠে—৪-১ ব্যবধানে। কিন্তু পরবর্তীতে ক্যামেরুনের একাধিক ড্র (লিবিয়া, এসওয়াতিনি, অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে) এবং কেপ ভার্দের ঘরের মাঠে ১-০ তে জয়—এসব মিলিয়েই তাদের পথ মসৃণ হয়।
দুই দশক আগেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেপ ভার্দের নাম শোনা যেত না। কিন্তু ধীরে ধীরে উন্নয়ন ও প্রতিভাবান প্রজন্মের উত্থানে তারা এখন আফ্রিকার এক অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প।
বর্তমানে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে একমাত্র কেপ ভার্দিয়ান খেলোয়াড় হলেন ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার লোগান কস্তা। তবে দলে আরও অনেকেই খেলেন পর্তুগাল, তুরস্ক, সাইপ্রাস, ইসরায়েল, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস (তুরস্কের কোচাইলিস্পোর ক্লাবের ফুটবলার) কেপ ভার্দের সর্বোচ্চ গোলদাতা—৮৫ ম্যাচে ২১ গোল। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা বেবে বর্তমানে খেলছেন স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ইবিজায়।
৪৮ দলের ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে হলো উজবেকিস্তান ও জর্ডানের তৃতীয় নবাগত দল।
বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দের পাশাপাশি থাকছে মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর, আলজেরিয়া ও ঘানা।
