খবর অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মঙ্গলবার বলেছেন, তাঁর সরকার ভারতের সঙ্গে চলতি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাঁরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশ চলতি আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেনি এবং জাতীয় দলকে এই আন্তর্জাতিক আসরে পাঠানো হয়নি।

অনেকের ধারণা, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইউনূসের আমলে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

– বিজ্ঞাপন –

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (BNP) সরকার গঠন করেছে। টি২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো এবং বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড যোগ দেওয়ার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক সমস্যাগুলো সমাধানে সবার দৃষ্টি এখন নতুন সরকারের দিকেই রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা

মন্ত্রী জানান, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর তিনি সংসদ ভবনে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

আমিনুল বলেন, “আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর আমি সংসদ ভবনে ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাঁর সঙ্গে এই বিষয়টি (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিষয়) নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি খুবই বন্ধুসুলভ ছিলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে কথা বলেছি। আমি তাঁকে বলেছি যে, আমরা আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে চাই, কারণ আমরা আমাদের সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। খেলাধুলা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই আমরা আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”

আমিনুল হক বুধবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যোগ দেয়নি। আমিনুল বলেন, কূটনৈতিক জটিলতার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি এবং বিষয়গুলো নিয়ে আগে আলোচনা হলে দল বিশ্বকাপে যোগ দিতে পারত।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, আগের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board, বিসিবি) নির্বাচন প্রশ্নাতীত ছিল না। এর মাধ্যমেই আমিনুল ইসলাম বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবেন।

“ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগে যা বলেছি এখনও তাই বলছি — এই নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে,” বলেন আমিনুল হক। তিনি আরও বলেন, “দেখুন, এই বিষয়টি আইসিসি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আইন ও বিধিমালার কাঠামোর মধ্যে থেকে যা যা করার প্রয়োজন, তা আলোচনা করেই করা হবে। সব কিছু ঠিক ভাবে বসে পর্যালোচনা করার পর আমি আরও মন্তব্য করব,” তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি এক দিনে সব কিছু পরিবর্তন করতে পারব না। এটি সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা সংস্কার করতে সময় লাগে, এবং এর জন্য আপনাদের সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে। আমি চাই না খেলাধুলাকে রাজনৈতিককরণ করা হোক বা কোনো দলীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হোক। যারা সত্যিকারের খেলাধুলা ও ক্রীড়াসমাজকে ভালোবাসেন, তাদেরই বিভিন্ন খাতে দায়িত্ব দেওয়া উচিত।”

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সময় লাগবে এবং তিনি চান খেলাধুলাকে রাজনৈতিক বা দলীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার না করা হোক।

তিনি আরও বলেন, যারা সত্যিকারের ক্রীড়াপ্রেমী, তাদের বিভিন্ন দায়িত্বে আনা হবে।

শাকিব ও মাশরাফির ফেরার সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শাকিব আল হাসান এবং আর এক সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির ব্যাপারে সরকার উদ্যোগী হবে বলে জানান আমিনুল।

তিনি বলেন, তাঁরা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবং তাঁদের অবদান দেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো নিষ্পত্তি হলেই তারা আবার ক্রিকেটে সম্পৃক্ত হতে পারবেন।

উল্লেখ্য, আগের সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *