বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেছেন, গাজার মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এখন মানবতার পরীক্ষা। আমরা জানি ঝুঁকি আছে। কিন্তু অন্যায় আর অবরোধের বিরুদ্ধে নীরব থাকা পাপ। জাহাজ থেকে সর্বশেষ তথ্যে বিশ্ববাসীকে এই স্পষ্ট বার্তা জানিয়েছেন শহিদুল আলম।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহিদুল আলম তার ফেসবুকে পোস্টে জানান, ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করা কনসায়েন্স জাহাজটি ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) অংশ। ইসরায়েলের আরোপিত অবৈধ অবরোধ ভেঙে গাজার মানুষকে মানবিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোই ফ্লোটিলার মূল লক্ষ্য।
কনসায়েন্স জাহাজের যাত্রীরা মূলত সাংবাদিক ও চিকিৎসক। এই পেশাজীবীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তাই এটি শুধু একটি যাত্রা নয় বরং ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বাহিনীর জন্য একটি কড়া বার্তাও, যা‘সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের ওপর লক্ষ্য করে চালানো হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘গাজা অবরোধ’ উভয়েরই অবৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এই পেশাজীবী গোষ্ঠী।
আগে গ্রিনপিসের মাই এস্পেরানজা জাহাজ পরিচালনা করা তাসমানিয়ার নারী মানবাধিকার কর্মী ম্যাডেলিন হাবিব ৬৬ মিটার কনসায়েন্স জাহাজটির অধিনায়ক। একাধিকবার গাজার অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়া ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মানবাধিকার আইনজীবী হুয়াইদা আরাফও শহিদুল আলমদের সঙ্গে রয়েছেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানান তিনি।
শহিদুল আলম সোশ্যাল পোস্টে আরও জানান, এই জাহাজ কেবল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে না। বরং মানবতার পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক প্রতীক হয়ে উঠছে। এই মুহূর্তে কনসায়েন্স জাহাজটি ‘রেড জোন’-এর মাত্র ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে। যেখানে অতীতে ইসরায়েলি নৌবাহিনী অবরোধ ভাঙার জাহাজে হামলা চালিয়েছিল।
৮ অক্টোবর ভোরে রেড জোনে পৌঁছানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন শহিদুল আলম। ঐতিহাসিক এ যাত্রার অংশ হতে পেরে শহিদুল আলম নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন বলে জানান।
২ বছর আগে আজকের দিনে হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হয় ইসরায়েলের ব্যাপক আক্রমণ। এরপর থেকে নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু।
