কলকাতা: ভারতের বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থায় আধার কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের মেরুদণ্ড। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পেনশন, সরকারি ভর্তুকি থেকে শুরু করে মোবাইল সংযোগ—সবকিছুই এখন আধার-নির্ভর। কিন্তু আধার কার্ডের এই গুরুত্বই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ, যদি কার্ডধারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর সেটি সঠিক উপায়ে নিষ্ক্রিয় করা না হয়।
কেন আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা জরুরি? কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর আধার কার্ডটি সচল থাকলে তা পরিচয় চুরির (Identity Theft) শিকারে পরিণত হতে পারে। অসাধু চক্র মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে পেনশন তোলা, সরকারি ভর্তুকি আত্মসাৎ করা বা অন্যান্য জালিয়াতিমূলক কাজ করতে পারে। আধার ব্যবস্থার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং জালিয়াতি রুখতে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৫ কোটি মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করেছে।
নিষ্ক্রিয় করার সহজ অনলাইন পদ্ধতি: পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর পর এখন আর সরকারি অফিসে বারবার দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। UIDAI-এর ‘myAadhaar’ পোর্টালের মাধ্যমে বাড়িতে বসেই এই কাজটি করা সম্ভব। পোর্টালে “Reporting of Death of a Family Member” ফিচারের মাধ্যমে এই আবেদন করা যায়।
– বিজ্ঞাপন –
আবেদনকারীকে নিজের পরিচয় যাচাই করার পর মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর, মৃত্যু শংসাপত্রের নম্বর (Death Registration Number), নাম এবং জন্মতারিখ আপলোড করতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের পর UIDAI সেই নির্দিষ্ট আধার নম্বরটি নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
নিরাপত্তায় আরও কড়াকড়ি: জালিয়াতি রুখতে শুধু কার্ড নিষ্ক্রিয় করাই নয়, বায়োমেট্রিক লকিংয়ের সুবিধাও দিচ্ছে UIDAI। এর পাশাপাশি ফেস অথেন্টিকেশন এবং লাইভনেস ডিটেকশনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর আধার নিষ্ক্রিয় করা একটি ছোট পদক্ষেপ হলেও, এটি ডিজিটাল ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
