নয়াদিল্লি: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটকে একবাক্যে ‘উন্নয়নমুখী’ ও ‘দূরদর্শী’ বলে আখ্যা দিল ভারতের শিল্পমহল। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট বক্তৃতার পর টাটা মোটরস, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, বেদান্ত এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলি এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল বরাদ্দ এবং এমএসএমই (MSME) খাতের সংস্কার ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিকাঠামো ও উৎপাদন শিল্পে জোয়ার: মাহিন্দ্রা গ্রুপের সিইও ডঃ অনীশ শাহ বাজেটের প্রশংসা করে জানান, ১২.২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী ব্যয় (Capital Expenditure) ভারতের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাড়াবে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলোতে কর্মসংস্থান তৈরি করবে। একইভাবে সিয়াম (SIAM) সভাপতি তথা টাটা মোটরসের এমডি শৈলেশ চন্দ্র জানিয়েছেন, পরিকাঠামো এবং ফ্রেট করিডরের ওপর জোর দেওয়ায় অটোমোবাইল সেক্টর ব্যাপক লাভবান হবে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির কাঁচামালে শুল্ক ছাড় ইভি (EV) ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে।
খনিজ সম্পদ ও সেমিকন্ডাক্টর মিশন: বেদান্ত লিমিটেডের চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল ওড়িশা ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে ‘রেয়ার আর্থ করিডর’ তৈরির সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এটি ভারতের খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মাহিন্দ্রা এবং পিডব্লিউসি ইন্ডিয়া (PwC India)—উভয় পক্ষই ‘সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’ এবং ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছে, যা ভারতকে বিশ্বমানের ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত করতে সাহায্য করবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (MSME) নতুন দিশা: অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে প্রশান্ত টি.এস. জানিয়েছেন, ক্রেডিট গ্যারান্টি কভারেজ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিংয়ের ওপর জোর দেওয়ায় ব্যাঙ্কগুলির পক্ষে ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ দেওয়া সহজ হবে। জয় পার্সোনাল কেয়ার-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুনীল আগরওয়াল মনে করেন, শিল্প ক্লাস্টারগুলোর পুনরুজ্জীবন ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলোকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেবে। গদরেজ কনজিউমার প্রোডাক্টস-এর সিইও সুধীর সীতাপতি ম্যাট (MAT) ক্রেডিট সংক্রান্ত ছাড়ের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা সংস্থাগুলোর হাতে নগদ জোগাবে।
সামগ্রিকভাবে, শিল্পপতিদের মতে এই বাজেট কেবল বড় শিল্পের নয়, বরং নারী শিক্ষা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুষম উন্নয়নের একটি ব্লু-প্রিন্ট। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার পথে এটি একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন তাঁরা।
