নয়াদিল্লি: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের মাধ্যমে আগামী এক দশকের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রবিবার সংসদ ভবনে মোদি ৩.০ সরকারের এই দ্বিতীয় বাজেটে ভারতের অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের দিকে নিয়ে যেতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোয় বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। বাজেট পেশের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, যা দেশের অর্থনীতির মজবুত ভিতকে প্রমাণ করে।
১ এপ্রিল থেকে নতুন আয়কর আইন: এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো আয়কর আইনের বড়সড় সংস্কার। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশে নতুন আয়কর আইন কার্যকর হতে চলেছে। এই নিয়মে করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমায় কিছুটা বদল আনা হয়েছে। সাধারণ করদাতারা ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে ট্রাস্ট বা যে সব ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অডিট প্রয়োজন নেই, তারা ৩১ অগস্ট পর্যন্ত সময় পাবেন। রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ৪.৩ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
বাংলার ঝুলিতে জোড়া করিডর ও হাইস্পিড রেল: ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের জন্য এবারের বাজেটে বড় প্রাপ্তি ঘটেছে। রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে দুর্গাপুরে একটি নতুন ‘শিল্প করিডর’ (Industrial Corridor) এবং ডানকুনিতে পণ্য পরিবহণের জন্য বিশেষ ‘ফ্রেট করিডর’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে শিলিগুড়িতে একটি ‘হাইস্পিড রেল করিডর’ তৈরির ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারামন। ডানকুনির পাশাপাশি গুজরাতের সুরাতেও একই ধরণের করিডর তৈরি হবে।
নারী ক্ষমতায়ন ও ‘লাখপতি দিদি’: মহিলাদের সাবলম্বী করতে ‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচির সাফল্যের পর এবার তাঁদের পুরোদস্তুর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন ঋণ প্রকল্প আনা হচ্ছে। মহিলাদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে দেশের প্রতি জেলায় একটি করে ‘মহিলা হস্টেল’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান: দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারে ৫টি নতুন ‘ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ থাকবে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ৩টি নতুন এমস (AIIMS) এবং ৩টি ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ’ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ হাজার নতুন সেকেন্ডারি স্কুল এবং খেলাধুলোর সরঞ্জাম তৈরিতে ভারতকে বিশ্বসেরা করতে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরিষেবা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর প্রভাব খতিয়ে দেখতে এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হবে।
সেমিকন্ডাক্টর ও ব্লু ইকোনমি: প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভারতকে স্বনির্ভর করতে ‘সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০’ লঞ্চ করা হয়েছে, যার জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া জলপথের উন্নয়নে আগামী ৫ বছরে ২০টি নতুন জাতীয় জলপথ চালু করা হবে। বারাণসী ও পটনায় গড়ে উঠবে জাহাজ মেরামতের বিশেষ বাস্তুতন্ত্র। কৃষি ক্ষেত্রে নারকেল চাষের উন্নতির জন্য এবং খাদি শিল্পের প্রসারে ‘মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে মেগা টেক্সটাইল হাব তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
