নয়াদিল্লি: আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মোদি ৩.০ সরকারের দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট পেশের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। বেতনভোগী কর্মচারী থেকে শুরু করে কৃষক ও রেলযাত্রী— সমাজের প্রতিটি স্তরই তাকিয়ে রয়েছে কেন্দ্রের ঝোলার দিকে। সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা না হলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী এবারের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আমজনতার হাতে বাড়তি নগদ টাকা রাখার ওপর জোর দিতে পারে কেন্দ্র।

এবারের বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য সবচেয়ে বড় পাওনা হতে পারে আয়করে ছাড়। জল্পনা তুঙ্গে যে, নতুন কর কাঠামোয় (New Tax Regime) স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের পরিমাণ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে বার্ষিক ১৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় কার্যত করমুক্ত হতে পারে। বর্তমান নিয়মে ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনো কর দিতে হয় না। মানুষের খরচ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে ঝিমিয়ে পড়া বাজারে চাহিদা তৈরি করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

রেল বাজেটেও বড়সড় চমক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রেনের ‘ওয়েটিং লিস্ট’ প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে রেল মন্ত্রক। সেই লক্ষ্যে বাজেটে আরও ৩০০টি নতুন ‘অমৃত ভারত’ ও ‘বন্দে ভারত’ ট্রেন চালানোর ঘোষণা হতে পারে। উল্লেখ্য, গত বাজেটে রেলের জন্য ২.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এবার সেই বরাদ্দের অঙ্ক আরও বাড়িয়ে রেলের আধুনিকীকরণ ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে বিশেষ জোর দেওয়া হতে পারে।

কৃষকদের মন জয়ে ‘কিসান ক্রেডিট কার্ড’ (KCC)-এর ঋণের ঊর্ধ্বসীমা ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লক্ষ টাকা করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এর ফলে চাষের সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান খরচ সামাল দিতে এবং কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়াতে অন্নদাতারা সুবিধা পাবেন। এছাড়া নতুন কর কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষকে আরও উৎসাহিত করতে সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করার পথে হাঁটতে পারে সরকার। সব মিলিয়ে ১ ফেব্রুয়ারির বাজেট ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি আনে কি না, সেদিকেই নজর দেশের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *