নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মন্দিরে প্রশাসনিক অব্যবস্থা, অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা ও দায়রা বিচারকের হস্তক্ষেপ চাইল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদ। এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা ও দায়রা বিচারকের কাছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কালিঘাট মন্দির একটি পাবলিক ট্রাস্ট হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান কমিটি সেই নিয়ম মানছে না। ফলে মন্দির পরিচালনায় ভেঙে পড়েছে শৃঙ্খলা এবং তৈরি হয়েছে একাধিক গুরুতর সমস্যা।
অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের গর্ভগৃহে মোবাইল ফোন ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের অবাধ ব্যবহার চলছে, যা মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছে। পাশাপাশি, মন্দিরের দান-দক্ষিণা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া, গর্ভগৃহে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ, মন্দির চত্বরে ভিক্ষাবৃত্তি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ইনভেন্টরি কমিটি নিষ্ক্রিয় থাকায় মন্দিরের মূল্যবান সম্পদের হিসাব রাখা হচ্ছে না। এমনকি ব্যাংকের ভল্টের চাবি হারানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
আরও অভিযোগ, ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির কমিটির নির্বাচন হয়নি, ফলে বর্তমান কমিটি আইনসিদ্ধ মেয়াদ পার করেও দায়িত্বে রয়েছে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বেড়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মন্দিরে নিয়মিত পূজা-পাঠও যথাযথভাবে হচ্ছে না এবং তা বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে। পাশাপাশি, ভক্তদের দর্শনে বাধা তৈরি হচ্ছে এবং অব্যবস্থাপনা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে বিচারকের কাছে একাধিক দাবি জানানো হয়েছে—
- মন্দির কমিটির পুনর্গঠন
- নিয়ম মেনে নির্বাচন
- নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো
- আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
এছাড়া, কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরতে একটি ফলক বসানোর দাবিও জানানো হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত এবং তাদের পক্ষ থেকেই এই দাবি জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন দেখার, প্রশাসন বা বিচার বিভাগ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।
