নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। সোমবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর এসআইআর ইস্যু থেকে শুরু করে ভোটের নিরাপত্তা— একাধিক বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাল রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি সবকিছু সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন হয়, তাহলে আমাদের ডাকার প্রয়োজন কী ছিল? মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
চন্দ্রিমা আরও অভিযোগ করেন, বৈঠকের সময় তাঁকে ‘ডোন্ট শাউট’ বলে সতর্ক করেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই মন্তব্যে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমি মহিলা, আমাকে বলা হচ্ছে চিৎকার না করতে। মহিলাদের প্রতি সম্মান থাকলে এ ধরনের মন্তব্য করা হত না।”
অন্যদিকে কংগ্রেসের নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য জানান, ভোট এক দফা বা একাধিক দফায় হতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিরাপত্তা। তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
সিপিএমের তরফে এক দফায় ভোটের দাবি জানানো হয়েছে। দলের নেতা মহম্মদ সেলিম কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
বিজেপির প্রতিনিধিরা অবশ্য জানিয়েছেন, বৈঠকে মূলত ভোট পরিচালনার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং ওয়েব ক্যামেরা বসাতে হবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম না হয়। নির্বাচন যাতে খুব বেশি দফায় না করা হয় সেই দাবিও বিজেপির প্রতিনিধি দল কমিশনকে জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এসআইআর ইস্যু এবং ভোটের নিরাপত্তা— এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
