ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে আরও একবার সংঘাতের সুর জোরালো করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ বা নামের অসঙ্গতি নিয়ে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ঘোষণা করেন, ৩১ ডিসেম্বর তিনি দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবেন, এবং যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা দাবি করবেন।
অভিষেকের অভিযোগ, “কোন যুক্তিতে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তার উত্তর চাই। না হলে কমিশন ঘেরাওয়ের পথে নামতে বাধ্য হব।”
নির্বাচন কমিশনের দাবি, ‘ভূতুড়ে’ বা অকার্যকর ভোটার চিহ্নিত করতেই এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসিদ্ধির জন্যই বাংলাকে লক্ষ্য করা হয়েছে।
অঙ্ক কষে তুলনা টেনে পাল্টা প্রশ্ন অভিষেকের
অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী—
| রাজ্য | বাদ পড়া নাম | শতকরা হার |
| তামিলনাড়ু | ৫৭.৩০ লক্ষ | ১২.৫% |
| গুজরাট | ৬০.৪১ লক্ষ | ৯.৯৫% |
| ছত্তিশগড় | ৩.১২ লক্ষ | ৮.৭৬% |
| কেরল | ২৪.৮ লক্ষ | ৬.৬৫% |
| পশ্চিমবঙ্গ | ৫৮.২০ লক্ষ | ৫.৭৯% (সবচেয়ে কম) |
অভিষেকের বক্তব্য, “বাংলায় সবচেয়ে কম নাম বাদ গেলেও কেন শুধু বাংলাকেই নিশানা করা হচ্ছে? আপনারা বিজেপির এজেন্ডা চালাচ্ছেন, দেশের কমিশনার হয়ে নয়।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচ প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনকে
- ৫৮.২০ লক্ষের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা? তালিকা দিন।
- অবৈধ ভোটার চিহ্নিত করাই যদি লক্ষ্য, তবে সীমান্ত লাগোয়া ত্রিপুরা-মেঘালয়-মিজোরামে SIR হলো না কেন?
- সবচেয়ে কম বাদ পড়লেও বাংলাকেই নোটিস? অন্য রাজ্যগুলোকে কেন নয়?
- যেখানে বেশি নাম বাদ, সেখানে মাইক্রো অবজার্ভার পাঠানো হল না কেন? বাংলাকেই কেন বারবার নোটিস?
- ৪৫% ম্যাপিং বলা হলেও পরে ৮৯.৬৫% পাওয়া গেল; ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাইবে কমিশন?
১০০ দিনের কাজ, আবাস ইস্যুতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ
এদিন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বঞ্চনা নিয়েও সুর চড়ান অভিষেক। প্রশ্ন করেন—
“বাংলায় দুর্নীতির অভিযোগে টাকা বন্ধ হলে, উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পরেও টাকা বন্ধ হয় না কেন?”
এসআইআর নিয়ে দিল্লিতেই সিদ্ধান্তমূলক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল— এই সংকেতই দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন নজর ৩১ ডিসেম্বরের বৈঠকের দিকে, যেখানে মুখোমুখি বসবেন তৃণমূলের দ্বিতীয় সারির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনার।
