গোপন নথি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’র প্রতিবেদকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্টরা।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা–সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) অভিযানে চালানো হয় সাংবাদিক হান্না ন্যাটানসনের বাড়িতে। এফবিআই-এর এজেন্টরা তার কাজের ল্যাপটপ ও ব্যক্তিগত ল্যাপটপসহ মোবাইল ফোন এবং একটি গারমিন ঘড়িসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ফেডারেল কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বলেন, “সরকারি পরোয়ানা অনুযায়ী, এই অভিযানটি এমন এক সরকারি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, যিনি বেআইনিভাবে গোপন সরকারি নথি নিজের কাছে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত। আমাদের জানানো হয়েছে, হান্না কিংবা ওয়াশিংটন পোস্ট এই তদন্তের লক্ষ্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, তবুও এই ব্যতিক্রমধর্মী ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং আমাদের কাজের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

মুক্ত গণমাধ্যম–সংক্রান্ত সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সরকার যে তথ্য প্রকাশ করতে চায় না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন করা সাংবাদিকদের ওপর চাপ বাড়ানোর একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ হিসেবেই এই অভিযান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ঘনঘন আক্রমণ করেছেন এবং যাদের তিনি অতিরিক্ত সমালোচনামূলক মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্তের হুমকি দিয়েছেন।

দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অভিযান সাংবাদিকদের কাজকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অরেলিও পেরেজ-লুগোনেস নামের এক ঠিকাদার, যিনি একজন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মেরিল্যান্ডে একটি সরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট নেন এবং সেগুলো প্রিন্ট করেন।

তদন্তকারীরা আরও দাবি করেন, চলতি মাসের শুরুতে তার গাড়ি ও বেজমেন্ট তল্লাশি করে একটি লাঞ্চবক্সের ভেতর গোপন নথি পাওয়া যায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, পেরেজ-লুগোনেস এসব তথ্য ফাঁস করার জন্য সাংবাদিক হান্না ন্যাটানসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনুরোধেই তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “বিচার বিভাগ ও এফবিআই ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে, যিনি পেন্টাগনের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে বেআইনিভাবে ফাঁস হওয়া গোপন তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন করছিলেন।”

তিনি আরও জানান, ওই “তথ্যফাঁসকারী” যার মাধ্যমে পেরেজ-লুগোনেসকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

পাম বন্ডি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো বেআইনি গোপন তথ্য ফাঁস মেনে নেবে না, যা প্রকাশিত হলে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের সেবায় নিয়োজিত সাহসী নারী-পুরুষদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।”

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটও এ বিষয়ে মন্তব্য করে অনলাইনে লেখেন, ট্রাম্পের কাছে তথ্যফাঁসের বিষয়ে “শূন্য সহনশীলতা” রয়েছে এবং তিনি এর বিরুদ্ধে “আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবস্থা” নেবেন।

হান্না ন্যাটানসন ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ এবং অরাজনৈতিক কর্মচারীদের তার রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্যে আনার প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন করেছেন।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রতিবেদন করেন, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে গত ৩ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনা ঘটে।

দেশটির রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস এবং কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস-সহ বিভিন্ন সংগঠন তল্লাশি পরোয়ানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *