পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সংক্রান্ত আপিল শুনতে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, এই ট্রাইবুনালে প্রাক্তন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং প্রাক্তন বিচারপতিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

আদালত জানায়, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং দুই বা তিন জন প্রাক্তন হাই কোর্ট বিচারপতির নাম সুপারিশ করতে পারেন। তাঁদের নাম নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হলে নির্বাচন কমিশন তাঁদের অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। এই ট্রাইবুনালই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আপিল শুনবে।

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের সামনে তোলা হয়। প্রথমত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার স্বাধীন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া আপত্তির ভিত্তিতে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি।

এই প্রসঙ্গে আদালত তাদের ২৪ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেখানে বলা হয়েছিল, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দেওয়া সিদ্ধান্ত কোনও প্রশাসনিক বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে না। সেই কারণেই স্বাধীন আপিল ব্যবস্থার জন্য ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, ট্রাইবুনালে দায়িত্ব নিতে রাজি হওয়া প্রাক্তন বিচারপতিদের সম্মানী নির্ধারণ করবেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সেই সম্মানীর পরিমাণ ঠিক করা হবে এবং পুরো খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো রিপোর্টের উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ৯ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ ১৬ হাজার আপত্তির নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এবং ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা আরও প্রায় ২০০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক কাজ করছেন।

শুনানিতে আরও জানানো হয়, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজের সুবিধার জন্য প্রায় ৭০০টি লগইন আইডি তৈরি করা হয়েছে। তবে কিছু প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের স্তর থেকেই হয়েছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নায়ডু আদালতকে আশ্বাস দেন, দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করা হবে।

সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্ট এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *