২০২৭ সালের জনগণনা (Census 2027) এবং ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার বা এনপিআর (NPR) নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ফের চরমে। গত রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেটে জনগণনা ও এনপিআর-এর জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার পরেই পাল্টা চাল দিল বাম শাসিত কেরল সরকার। এক বিশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেরল সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যে এনপিআর সংক্রান্ত কোনও কাজ হবে না।
২০ ডিসেম্বর ২০১৯-এর নির্দেশ বহাল
কেরল সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে এনপিআর সংক্রান্ত সমস্ত কাজ স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখনও কার্যকর রয়েছে। উল্লেখ্য, ওই দিনই দেশজুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (CAA) কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কেরলই ছিল দেশের প্রথম রাজ্য যারা সিএএ-র বিরুদ্ধে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করেছিল এবং সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল।
কেন ফের এই বিরোধিতা?
কেন্দ্রীয় বাজেটে ‘রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া’ (RGI)-এর অধীনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে এনপিআর এবং ২০২৭ সালের জনগণনার খরচও অন্তর্ভুক্ত। এই বরাদ্দের পরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয় যে, জনগণনার সঙ্গেই এনপিআর-এর কাজ সেরে ফেলতে চায় কেন্দ্র। কেরল মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দপ্তরের দাবি, “এনপিআর-এর মাধ্যমে এনআরসি (NRC) কার্যকর করার যে আশঙ্কা রয়েছে, তা থেকে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতেই এই কড়া অবস্থান।”
– বিজ্ঞাপন –
কেন্দ্রের নীতি বনাম রাজ্যের অনড় মনোভাব
কেরল সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “রাজ্য সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী কেরলে কোনও মতেই এনপিআর কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। জনগণনা শুরুর আগে নতুন করে গুজব ছড়াচ্ছে, তাই সরকারের অবস্থান ফের স্পষ্ট করা জরুরি ছিল।”
বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এনপিআর আসলে এনআরসি-র প্রথম ধাপ, যা দেশের নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তৈরি। কেরলের এই নয়া বিজ্ঞপ্তি সেই বিতর্ককে ফের জাতীয় রাজনীতিতে উসকে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
