প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। পাঠকমহলে যিনি ‘শংকর’ নামেই বেশ পরিচিত। ৯৩ বছর বয়সে তাঁর প্রস্থান শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বাংলা চলচ্চিত্র জগতেরও এক অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ, তাঁর কলমে জন্ম নেওয়া বহু চরিত্র ও কাহিনি পর্দায় নতুন জীবন পেয়েছে কিংবদন্তী নির্মাতাদের হাত ধরে।

শংকরের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’, এটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক মাইলফলক। কলকাতার অভিজাত হোটেলপাড়ার অন্তরাল জীবনের গল্পে রচিত এই উপন্যাস প্রকাশের পরপরই তুমুল সাড়া ফেলে। জনপ্রিয়তার জেরে এটি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়।

উপন্যাসটির সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৮ সালে একই নামে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ‘চৌরঙ্গী’, যেটি পরিচালনা করেন পিনাকি ভূষণ মুখোপাধ্যায়। চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন উত্তম কুমার, অঞ্জনা ভৌমিক ও শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক- দুই ক্ষেত্রেই বিপুল সাফল্য পায়।

বহু বছর পর সমকালীন প্রেক্ষাপটে একই উপন্যাস থেকে নির্মাতা সৃজিত মুখার্জী নির্মাণ করেন ‘শাহজাহান রিজেন্সি’। ছবিতে অভিনয় করেন আবির চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও মমতা শঙ্কর প্রমুখ। এই ছবির সূত্রেই শংকরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপ হয়েছিল সৃজিতের। নির্মাতার ভাষ্য,“শংকরের সাহিত্যই তাঁকে নিজের শহর কলকাতাকে নতুন করে চিনতে শিখিয়েছে।”

তবে শংকরের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন কিংবদন্তী পরিচালক সত্যজিৎ রায়। তাঁর পরিচালনায় শংকরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় দুটি সিনেমা। একটি ‘সীমাবদ্ধ’ এবং অন্যটি ‘জন অরণ্য’।

এই দুটি চলচ্চিত্র ছিল সত্যজিতের ‘কলকাতা ট্রিলজি’র অংশ, যেখানে শহরের মধ্যবিত্ত সংকট, কর্পোরেট নৈতিকতা, বেকারত্ব ও সামাজিক টানাপোড়েন গভীরভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে ‘জন অরণ্য’। যে ধরনের তীব্র সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার গল্প সত্যজিৎ সচরাচর পর্দায় আনেননি- সেটি দর্শক ও সমালোচকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায় এই সিনেমায়। শংকরের লেখনীর সামাজিক অন্তর্দৃষ্টি এখানে নতুন মাত্রা পায়।

শংকরের প্রথম দিকের উপন্যাস ‘কত অজানারে’ অবলম্বনে ১৯৫৯ সালে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেছিলেন প্রখ্যাত পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। প্রায় কুড়ি দিনের শুটিংও হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক ও অন্যান্য জটিলতায় ছবিটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়— বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যা এক অপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, শংকরের ‘মানসম্মান’ উপন্যাস থেকে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘শীষা’ নির্মাণ করেন আরেক বিখ্যাত নির্মাতা বাসু চ্যাটার্জি। এতে অভিনয় করেন মিঠুন চক্রবর্তী ও মুনমুন সেন। এর মাধ্যমে শংকরের গল্প পৌঁছে যায় সর্বভারতীয় দর্শকের কাছেও।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *