খবর অনলাইন ডেস্ক: দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা ইন্ডিগোর (IndiGo) অভূতপূর্ব উড়ান-বিভ্রাটে যাত্রীদের ক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও সংস্থাটি এ পর্যন্ত প্রায় ৬১০ কোটি টাকা যাত্রীদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে রবিবার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গত পাঁচ দিনে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তিন হাজারেরও বেশি ব্যাগ যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিগোর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, উড়ান-বিভ্রাট নিয়ে মূল কারণ বিশ্লেষণ করা (রুট কজ অ্যানালিসিস) শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের পাইলট সংখ্যা পর্যাপ্ত। তবে অতিরিক্ত বাফার রাখার মতো বিলাসিতা হয়তো আমাদের নেই। কোনও নিয়োগও স্থগিত করা হয়নি।”
রবিবার ইন্ডিগো মোট ২৩০০টি দৈনিক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উড়ানের মধ্যে ১৬৫০টি চালিয়েছে। বাকি ৬৫০টি উড়ান এদিন বাতিল করা হয়। সংস্থার দাবি, তাদের নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে উন্নত করা হচ্ছে এবং ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
রবিবার কত উড়ান বাতিল
বিভিন্ন বিমানবন্দরে রবিবারের পরিস্থিতিও ছিল উদ্বেগজনক। এ দিন উড়ান বাতিলের সংখ্যা – হায়দরাবাদে ১১৫টি, মুম্বইয়ে ১১২টি, দিল্লিতে ১০৯টি, চেন্নাইয়ে ৩৮টি এবং অমৃতসরে ১১টি।
এর পাশাপাশি, কলকাতা থেকে রবিবার ৭৬টি ইন্ডিগো উড়ান বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি কলকাতা থেকে যাওয়ার এবং ২৩টি কলকাতায় আসার। কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে অবস্থা
গত মঙ্গলবার থেকে এ পর্যন্ত ২০০০-এরও বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে। বহু উড়ান দেরি করেছে। এর ফলে হাজার হাজার যাত্রীকে বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশের সবচেয়ে বড়ো বিমান চলাচল সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উড়ান-বিভ্রাটের জেরে ডিজিসিএ ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্সকে শো কজ নোটিশ দিয়েছে। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক শনিবার নির্দেশ দিয়েছে যে, ৭ ডিসেম্বর রাত ৮টার মধ্যে বাতিল উড়ানের সমস্ত বকেয়া রিফান্ডের কাজ শেষ করতে হবে।
এ ছাড়াও, যাত্রীদের দুর্ভোগের সুযোগে অন্য বিমানসংস্থার উড়ানে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠতে থাকায় সরকার ঘরোয়া উড়ানে ভাড়ার সীমা (fare cap) আরোপ করেছে।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে সর্বতোভাবে চেষ্টা করছে।
ইন্ডিগো উড়ান বাতিলে নাভিশ্বাস যাত্রীদের, ভিড় সামলাতে বিশেষ ট্রেন পূর্ব
