খবর অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির নির্বাচন সদনে সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন হঠাৎই ওয়াকআউট করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে এবং তাঁর প্রতিনিধিদলকে “অপমান ও অপদস্থ” করেছেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, আমি আপনাকে বিশ্বাস করি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনতেই রাজি হলেন না। ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কিছুই পাইনি।” মমতার অভিযোগ, বৈঠকের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যা বলেছেন,  তার বেশির ভাগই “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।”

মমতা বলেন, “আমি দিল্লির রাজনীতিতে বহু বছর আছি। সাতবার সাংসদ ছিলাম, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলাম। এমন অহংকারী ও মিথ্যাবাদী নির্বাচন কমিশন আগে দেখিনি। কোনও চেয়ার চিরস্থায়ী নয়। একদিন ওঁকেও যেতে হবে।”

– বিজ্ঞাপন –

বৈঠক ছাড়ার আগে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি ও বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের পরিণতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন বলে দাবি করেন। মমতা বলেন, “আমি বলেছি, আপনার অবস্থাও ধনখড়ের মতো হতে পারে। বিজেপির কথা শুনলে এই পরিণতিই হয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর মূল অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলায় প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কোনও রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই। তিনি বলেন, “একজন খুনিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকে, অথচ এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই কাজ করা হয়েছে।”

এ ছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন হঠাৎ করে বাংলায় ৮,১০০ জন মাইক্রো অবজারভার পাঠানো হল এবং কেন ত্রিপুরা থেকে বিজেপিঘেঁষা আধিকারিকদের আনা হচ্ছে।

মমতা স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন বয়কট করবে না। তাঁর কথায়, “আমরা লড়াই করব। ইসির কাছে বিজেপির ক্ষমতা আছে, আর আমাদের সঙ্গে আছে সাধারণ মানুষ।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাম কাটার ক্ষেত্রে নারীদের, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও উপজাতি ভোটারদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। বাঙালিদের নামের ইংরেজি বানান ও বিবাহের পর পদবি পরিবর্তনের বিষয়টি উপেক্ষা করেই বহু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টভাবে স্যার (SIR) প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন।

অন্য দিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতার এই পদক্ষেপকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উনি জানেন বাংলার মানুষ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। তাই এই ধরনের নাটক করছেন।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *