মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানকে চুক্তিতে রাজি হতে মঙ্গলবার রাত ৮ টা পর্যন্ত যে আলটিমেটাম দিয়েছেন সেটাই চূড়ান্ত। ইরান যে প্রস্তাব দিয়ে তা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ হোয়াইট হাউসে এ কথা বলেন ট্রাম্প। এর আগে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম দিয়েও তা পিছিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সোমবার ৬ এপ্রিল তথ্যটি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে ট্রাম্প চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়ে লিখেছিলেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম!’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সময়সীমা অনুযায়ী, তেহরানের স্থানীয় সময় তখন বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা এবং গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা।

এর আগে কয়েকবার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

প্রথম আলটিমেটাম (২১ মার্চ): ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি নৌপথটি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘পুরোপুরি গুঁড়িয়ে’ দেওয়া হবে। বিশেষ করে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে আগে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেন তিনি।

দ্বিতীয় আলটিমেটাম (২৩ মার্চ): দুই দিন পর ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হয়। দুই দেশের মধ্যে ‘খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে দাবি করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেন।

তৃতীয় আলটিমেটাম (২৭ মার্চ): ট্রাম্প জানান, ‘ইরান সরকারের অনুরোধে’ তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা আরও ১০ দিন পিছিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে নতুন সময়সীমা দাঁড়ায় ৬ এপ্রিল।

৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সতর্কতা (৪ এপ্রিল): ৬ এপ্রিলের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় গতকাল ট্রাম্প ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তাদের হাতে আর মাত্র ‘৪৮ ঘণ্টা’ সময় আছে। এরপর তিনি দেশটিতে ‘নরক’ বানিয়ে ছাড়বেন।

সর্বশেষ হুমকি (৫ এপ্রিল): গতকাল আবারও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই হুমকির পুনরাবৃত্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, চুক্তি করতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এরপর বললেন মঙ্গলবারের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। সংঘাত শেষ করার জন্য মার্কিন প্রস্তাবে ইরান যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তা তাৎপর্যপূর্ণ তবে যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘যদি তারা (ইরান) যা করতে হবে তা করে, তবে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তাদের কিছু কাজ করতে হবে। তারা জানে এটা, আমি মনে করি তারা ভালো বিশ্বাসে আলোচনা করছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *