সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে নেমেছিল ভারতীয় মহিলা দল। সেই ম্যাচে স্মৃতি মন্ধানার পর সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন প্রতিকা রাওয়ালও। যা ২৫ বছরের ভারতীয় ওপেনারের বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরিও। স্মৃতি-প্রতিকার জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে বেগ পেতে হয়নি ভারতকে। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়ে কেমন লাগছে, সে কথা জানাতে গিয়ে প্রতিকা তাঁর ‘আদর্শ’ বাবার কথা বলেন। অন্যদিকে, মেয়ের কাছে আরও সেঞ্চুরি আশা করেন প্রতিকার বাবা।
স্মৃতি মান্ধনার সঙ্গে প্রতিকার ২১২ রানের জুটি নবি মুম্বইয়ে ভারতের জয়ের সুর রচনা করেছিল। এরপর জেমাইমা রদ্রিগেজের সঙ্গে ৭৬ রানের পার্টনারশিপও গড়েন তিনি। সেই প্রতিকা বিসিসিআইয়ের এক ভিডিওয় বলেন, “নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। যা নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলেছে। যে কোনও পরিস্থিতিতে যাতে ম্যাচ জিততে পারি, এই বিশ্বাসটা ছিল। আমাদের দলে ম্যাচ জেতানোর মতো খেলোয়াড়রা আছে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। আশা করি, এভাবেই খেলা চালিয়ে যেতে পারব।”
তার ১২২ রানের ইনিংসটি ভারতকে শেষ চারে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। এই প্রসঙ্গে প্রতিকা বলেন, “এর জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছি। অনুশীলনে প্রচুর ঘাম ঝরিয়েছি। খুশি যে, ঠিকমতো শট নির্বাচন করেছি। এমনভাবে ব্যাট করছি, যা দলকে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করা স্পেশাল। আইসিসি’র কোনও ট্রফি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সে কথা আমার বাবা, মা, কোচরা বারবার বলতেন। তাই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করে ভালো লাগছে।”
মাত্র তিন বছর বয়সে প্রতিকার হাতে ব্যাট তুলে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। তখন থেকেই হাতেখড়ি। মাঝে বাস্কেটবল-সহ আরও কিছু খেলায় মনোনিবেশ করলেও শেষ পর্যন্ত থিতু হন ক্রিকেটে। প্রতিকা বলছেন, “সেঞ্চুরি করে আমি যতটা খুশি, তার চেয়েও বেশি খুশি আমার বাবা। যখন ছোট ছিলাম, বাবা চাইতেন আমি যেন তাঁর চেয়েও বড় হই। আমাকে দেশের হয়ে খেলতে দেখে বাবা গর্বিত। সেমিফাইনালে ভালো খেলতে মরিয়া আমরা।”
উল্লেখ্য, প্রতিকার বাবা প্রদীপও ক্রিকেট খেলতেন। ছোটবেলায় বোলার ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আম্পায়ারিং কোর্সও পাশ করেন। মেয়ের শতরান দেখার জন্য এতটাই উদগ্রীব হয়ে ছিলেন তিনি যে, ব্যানার তৈরি মাঠে যেতেন। বৃহস্পতিবার প্রতিকা যখন সেঞ্চুরি হাঁকান, সেই ব্যানার দেখানোও হয় টেলিভিশনের পর্দায়। প্রতিকার বাবা বলেন, “বহুদিন ধরে ওর সেঞ্চুরি দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওর যখন তিন বছর বয়স, ওর হাতে ব্যাট তুলে দিয়েছিলাম। আমার প্রথম সন্তানকে ক্রিকেটার বানাতে চেয়েছিলাম। আমি পরিবার থেকে সমর্থন পাইনি। কিন্তু কখনই চাইতাম না আমার মেয়ে সমস্যার সামনে পড়ুক। চাইব ও আরও সেঞ্চুরি করুক। জানি যে পরের ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারে ভারতই।”
