নিজস্ব প্রতিনিধি: বেশ জাঁকজমকেই সূচনা হল ১২তম ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল)। শনিবার কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান এসজি সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant) এবং কেরল ব্লাস্টার্স (Kerala Blsters)। মোহনবাগান ২-০ গোলে কেরল ব্লাস্টার্সকে হারিয়ে এবারের আইএসএল-এ যাত্রা শুরু করল। মোহনবাগানের হয়ে প্রথমার্ধে ৩৬ মিনিটের মাথায় গোলটি করেন জেমি ম্যাকলারেন এবং অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন টম অলড্রেড।
এ দিন গোয়ার ফাতোর্দায় পিজেএন স্টেডিয়ামে আয়োজিত দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াল এফসি গোয়া (FC Goa)। নবাগত ইন্টার কাশীর (Inter Kashi) সঙ্গে তাদের ম্যাচ ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে প্রশান্ত করুতাদাতকুনির গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। ম্যাচের ৮৪ মিনিটের মাথায় দেজান দ্রাজিকের গোলে সমতা ফেরায় এফসি গোয়া।

কলকাতায় খেলা যুবভারতী ও কিশোরভারতীতে
কলকাতায় ভক্তদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই ম্যাচ শুরু হলেও, লিগ শুরুর প্রস্তুতিতে পর্দার আড়ালে চলছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আইএসএল ২০২৫-২৬ মরসুম ১৪টি ক্লাবের মধ্যে একটি সিঙ্গেল-লেগ রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে মোট ৯১টি ম্যাচের মাধ্যমে খেলা হবে। ৯১টি ম্যাচ শেষে সর্বাধিক পয়েন্ট অর্জনকারী দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
– বিজ্ঞাপন –
এই লিগে প্রায় ৩৫ জন ম্যাচ অফিসিয়াল রেফারি ও সহকারী রেফারি হিসেবে ৯১টি ম্যাচ পরিচালনা করবেন, অন্য দিকে ১৫ জন এআইএফএফ এলিট ম্যাচ কমিশনার প্রতিটি ম্যাচের পরিচালনাগত দিক তদারকি করবেন।
এই মরশুমে দশটি রাজ্যের ১১টি জায়গায় ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ও কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গন, নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম (যেখানে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি ও পাঞ্জাব এফসি তাদের হোম ম্যাচ খেলবে), মুম্বই ফুটবল অ্যারিনা (মুম্বই), ফাতোরদার পিজেএন স্টেডিয়াম (গোয়া), কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম, বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তীরভা স্টেডিয়াম, চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, জামশেদপুরের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়াম।
আইএসএলে প্রথমবারের মতো অবনমন (রেলিগেশন) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে, যেখানে সর্বনিম্ন স্থানে থাকা দলটি ইন্ডিয়ান ফুটবল লিগে অবনমিত হবে।
অন্য দিকে, ১২তম ইন্ডিয়ান সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল আগামী মরসুমে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর প্রিলিমিনারি রাউন্ডে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করবে।


কী বলছেন আয়োজকরা
এআইএফএফ ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যানারায়ণ বলেন, “মাঠের বাইরের সমস্ত বিতর্ক বা আলোচনার পর, অবশেষে আমরা মাঠে খেলা শুরু করতে যাচ্ছি, যা একটি উদযাপনের মুহূর্ত। ফুটবল আবার মাঠে ফিরেছে, যা ফুটবল পরিবারের সকলেই চেয়েছিলেন। আমি অংশগ্রহণকারী সকল ক্লাবকে অনেক শুভেচ্ছা জানাই।”
এআইএফএফ লিগস চিফ অপারেটিং অফিসার অক্ষয় রোহাতগি বলেন, “আইএসএল মরসুম ১২ এই অর্থে ঐতিহাসিক হবে যে, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী এআইএফএফ প্রথমবারের মতো নিজস্বভাবে এটি পরিচালনা করবে ছে। পদোন্নতি (প্রমোশন) ও অবনমনের নীতিও প্রথমবার দেখা যাবে, যা মাননীয় আদালতের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের হাতে মাত্র ৩৮ দিন সময় ছিল। কিন্তু ক্লাবগুলি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির অসাধারণ সহযোগিতার ফলে আমরা বিশ্বাস করি ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব। ভারতীয় ফুটবলের সকল অংশীদারদের জানাই শুভেচ্ছা।”
ছবি: সঞ্জয় হাজরা ও ইনস্টাগ্রাম।
