কলকাতার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই) ক্যাম্পাসে একাধিক গাছ কাটার সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন এই গাছ কাটা প্রয়োজন হল, কী ভিত্তিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল— সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন পর্ষদ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পর্ষদের চেয়ারম্যান তপন দাশগুপ্ত নিজেই নড়েচড়ে বসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পর্ষদের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিপান কুমার সুদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করা হবে। জবাবে সন্তুষ্ট না হলে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছে পর্ষদ সূত্র।

সোমবার সংবাদমাধ্যমে এই গাছ কাটার খবর প্রকাশিত হতেই বন দফতরের অন্দরেও তৎপরতা শুরু হয়। বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা প্রকাশ্যে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে না থাকলেও দফতরের কাছে তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট চাইবেন। 

আইএসআই কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, বন দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই ক্যাম্পাসে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে বন দফতরের অনুমতি মিলতেই কাজ শুরু হয় এবং ইতিমধ্যেই কয়েকটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, কর্মী ও আধিকারিকদের একাংশ আপত্তি তোলায় আপাতত গাছ কাটার কাজ স্থগিত রেখেছেন আইএসআই-এর নবনিযুক্ত অধিকর্তা (ডিরেক্টর) অয়নেন্দ্র বসু।

বিটি রোডের ধারে বরাহনগরে অবস্থিত আইএসআই কলকাতা ক্যাম্পাসে থাকা বেশ কিছু গাছ কাটার জন্য আগেই আবেদন করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্তার দাবি, তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতেই বনকর্মীরা ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন এবং খতিয়ে দেখে অনুমতি দেন। তবে বন দফতরের নথি অনুযায়ী, মোট ৬৫টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ১২টি গাছকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অর্থাৎ অধিকাংশ গাছ জীবিত অবস্থাতেই কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল— যা ঘিরেই মূল বিতর্ক।

খবর প্রকাশ্যে আসতেই পরিবেশপ্রেমী মহলেও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানায় পরিবেশ সংগঠন গ্রিন নাগরিক। সংগঠনের সভাপতি শঙ্কর রাউথ বলেন, “সংগঠনের পক্ষ থেকেও আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। বন উন্নয়ন পর্ষদের এই পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।’’

ঘটনার প্রেক্ষিতে বন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বলেন, “খবর নিয়ে জেনেছি, আপাতত গাছ কাটা স্থগিত রয়েছে। কিন্তু এতগুলি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হল, তা পরিষ্কারভাবে জানতে আমি আমাদের সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছে রিপোর্ট চাইব। পরিবেশের ক্ষতি হোক, তা আমরা কোনও ভাবেই চাই না। এই বিষয়ে চুপ করে থাকার সুযোগ নেই।”

সব মিলিয়ে, আইএসআই ক্যাম্পাসে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত এখন রাজ্য প্রশাসন, বন দফতর ও পরিবেশপ্রেমীদের নজরে। তদন্তের পরে এই ঘটনায় আরও কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

আরও পড়ুন: ১০ ডিগ্রির ঘরেই কলকাতার পারদ, কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে বাংলা, আর কতদিন চলবে?



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *