দেশ জুড়ে অন্তত ২৫ হাজার এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) পরিবেশক রয়েছে, যাদের মধ্যে মাত্র ১৩ জন ছাড়া কারোরই নিবন্ধন নেই। নিবন্ধন ছাড়াই দিনের পর দিন ব্যবসা করছে তারা। আবার সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ভোক্তাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো দামও আদায় করছে। কিন্তু এসব বন্ধে সরকারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নেই প্রয়োজনীয় তদারকি। আবার সরকারের তরফ থেকে এ খাতে দেওয়া হয় না ভর্তুকি। মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযানে নামলেও কাজে আসছে না। উল্টো ধর্মঘটের নামে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছেন ব্যবসায়ীরা। অতি মুনাফালোভী এসব ব্যবসায়ীর কাছে ভোক্তারা যেমন জিম্মি, তেমনি সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগও এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে। অবশ্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ সংকটের জন্য সরকারের ‘অব্যবস্থাপনা’, ‘অদক্ষতা’ ও ‘জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাকে’ দায়ী করা হচ্ছে।

এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। বর্তমানে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ১২ কোজি সিলিন্ডারের দাম চলতি মাসের জন্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগের মাসের তুলনায় ৫৩ টাকা দাম বাড়ানো হয় এবার। কিন্তু বাজারে ২ হাজার টাকার নিচে মিলছে না এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এলাকাভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ রুপি (১০৫০ থেকে ১১৯০ টাকার মতো)। এ টাকায় এলপিজি কেনার পর ভোক্তাকে সরকারিভাবে সরাসরি সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকার মতো ভর্তুকি দেওয়া হয়। তখন এর দাম পড়ে ৬৫০ থেকে ৭৯০ টাকার মতো।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে কখনোই এলপিজি বিক্রি হয় না। এ নিয়ে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরও কোনো সুরাহা নেই।

দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এই এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে নিয়মিত তদারকি ছাড়া এলপিজি নিয়ে এ নৈরাজ্যের নাগাল টানা সম্ভব নয়।

এর আগে এক সেমিনারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হওয়া উচিত ১০০০ টাকা। ১২০০ টাকার সিলিন্ডার ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। দায়িত্বহীন ব্যবসা হতে পারে না, ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে। এলপিজির দাম কমানোটা চ্যালেঞ্জ, এজন্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নিতে হবে, বেশি মুনাফা করে টাকা পাচারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

জিম্মি ভোক্তারা, অসহায় সরকার : গ্যাস সংকটের কারণে দেড় দশক ধরে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার। ফলে রান্নার কাজে ভোক্তাদের বড় অংশই এখন এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। আবার অনেকের গ্যাস সংযোগ থাকলেও ঠিকমতো গ্যাস না পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছেন।

মূলত বাসাবাড়িতে রান্নায়, কারখানা, বাণিজ্যিক ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে (অটো গ্যাস) ব্যবহার হচ্ছে এলপিজি। গত সাত বছরে দেশে এলপিজির ব্যবহার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে এখন ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে। আর এ সুযোগে ‘অসাধু’ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দামে এলপিজি বিক্রি করছেন। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ভোক্তারাও চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।

ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান জানান, এ মাসে ১২ কেজির এলপিজি ২১০০ টাকায় কিনতে হয়েছে তাকে। যদিও বিইআরসি এ দাম বেঁধে দিয়েছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। দোকানদারকে সরকার নির্ধারিত দামের কথা বলা হলে তাদের সাফ জবাব ‘পোষালে নেন না হলে দরকার নেই।’ সব দোকানদারই একই কথা বলে। রান্না করে খাওয়া তো লাগবে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই কিনতে হলো। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতি মাসেই হয়। তবে এবার দামটা খুবই অস্বাভাবিক। মাহফুজের মতো এমন অভিযোগ অসংখ্য মানুষের। এলপিজি নিয়ে এমন চরম নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিদপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু তাতে দাম নিয়ন্ত্রণে তো আসেনি, উল্টো গত বুধবার কমিশন বৃদ্ধিসহ নানান দাবিতে ধর্মঘট ডাকে এলপিজি বিক্রেতাদের সংগঠন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।

গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ করে দেয় তারা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বেশি দামে কোথাও কোথাও এলপিজি বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।

সমস্যা সমাধানে বিকেলে এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সেখানে চলমান অভিযান বন্ধ রাখার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

কমিশনের পক্ষ থেকে বর্তমান নির্ধারিত দরের বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই এমন কথা বলা হলেও ব্যবসায়ীরা যে আগের মতোই বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি করবেন, সেই আভাস পাওয়া গেল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির এক নেতার বক্তব্যে। সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশি গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিশন মৌখিকভাবে জানিয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটররা ১২ কেজির এলপিজির দাম ১৪৫০ টাকায় এবং খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তা পর্যায়ে ১৫০০ টাকা করে বিক্রি করবে।’

তবে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথা কমিশন থেকে বলা হয়নি। কারণ, গণশুনানি ছাড়া এলপিজির দাম নির্ধারণের কোনো সুযোগ নেই। চলতি মাসের জন্য কমিশন যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেটাই চূড়ান্ত। পরের মাসের জন্য আবার নতুন দর নির্ধারণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বলেছি। তারা জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষে যে জাহাজগুলো দেশে পৌঁছার কথা, এগুলো পৌঁছতে বিলম্ব হয়েছে। এগুলো দেশে এলে এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’

বিইআরসি চেয়ারম্যান মনে করেন, ‘মাতারবাড়ী এলপিজি টার্মিনালে বড় ও মাঝারি জাহাজের জন্য নোঙর সুবিধা উন্নত করা গেলে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া অপারেটরদের কাছ থেকে মাশুলের সঠিক তথ্য পেলে সঠিক মূল্য নির্ধারণে আমরা ভূমিকা রাখতে পারব।’

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও এলআর ইনস্টিটিউট যৌথভাবে একটি এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে।

লাইসেন্স নেই বেশিরভাগ পরিবেশকের : এলপিজি আমদানি ও বোতলজাত করার জন্য কমিশন থেকে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিয়েছে। যাদের বলা হয় এলপিজি অপারেটর। এর মধ্যে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এলপিজি অপারেটর হিসেবে কাজ করছে। এলপিজির গড় মাসিক চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার টন। এই বাজারের ৫৫ শতাংশ ব্যবসা রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের হাতে।

অপারেটরদের কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলরা। সারা দেশে এমন প্রায় ২৫ হাজার পরিবেশক রয়েছে বলে জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। যদিও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পরিবেশকের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

আইন অনুযায়ী বিইআরসি থেকে এদের নিবন্ধন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মাত্র ১৩ জন পরিবেশক ছাড়া লাইসেন্স নেই কারোরই। আবার ১১ হাজারের বাইরে যেসব খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন, তাদেরও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেই। এসব ব্যবসায়ীর বেশিরভাগই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডার পরিবহন ও বিক্রি করার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।

জানতে চাইলে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরিবেশকদেরও লাইসেন্স নেওয়া উচিত। খুবই অল্প কিছু পরিবেশক ছাড়া কারোরই লাইসেন্স নেই। আমরা অপারেটরদের কাছে তাদের পরিবেশকদের তালিকা চেয়েছি। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ পরিবেশকের তালিকা পেয়েছি। তবে পুরো তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘এ তালিকা ধরে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য সবাইকে আমরা চিঠি দেব। একই সঙ্গে অপারেটরদের বলেছি চলতি জানুয়ারি থেকে তারা যেন লাইসেন্সবিহীন কোনো পরিবেশকের কাছে এলপিজি বিক্রি না করে। পাশাপাশি লাইসেন্স প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ : খুচরা বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে অস্বাভাবিকতার প্রেক্ষাপটে গত রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম। এতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব), এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবু খুচরা পর্যায়ে একটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, জাহাজ সংকট এবং কিছু কার্গোর ওপর নিষেধাজ্ঞাজনিত কারণে আমদানি পর্যায়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে তা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যৌক্তিক কারণ নয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলপিজির আমদানি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন আর ডিসেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৭ হাজার টনে। অর্থাৎ, আমদানি বৃদ্ধি পেলেও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো বাস্তব কারণ নেই।

এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বৈঠকে জানান, বিইআরসি দাম সমন্বয় করতে পারে এমন ধারণা থেকে অনেক খুচরা বিক্রেতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। তবে এলপি গ্যাস সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক আবু তাহের কোরেশি বলেন, ‘বাজারে এলপিজির সংকট রয়েছে। আগে আমি প্রতিদিন ২০০ সিলিন্ডার বিক্রি করতাম। এখন সপ্তাহে ৩০০ সিলিন্ডার পাচ্ছি। এত অল্প সিলিন্ডার বিক্রি করে তো দৈনন্দিন খরচ ওঠানো যাবে না। তাই দাম কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে। তবে কিছু খুচরা বিক্রেতা এ সুযোগে ইচ্ছেমতো অনেক বেশি দাম আদায় করছে।’

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরাও : ভোক্তাদের পাশাপাশি এ খাতের ব্যবসায়ীদেরও রয়েছে নানারকম ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, এসব সমস্যার কথা বিভিন্ন সময়ে সরকারকে বলা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ খাতে ব্যবসা করতে ১৯-২০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও অনুমোদনপত্র নিতে গিয়ে ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কয়েক কোটি টাকার ফি দেওয়ার পাশাপাশি বিপিসিকেও বাজার ফি দিতে হয়। এ ছাড়া আমদানিকৃত এলপিজির জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর সেখান থেকে ছোট ছোট জাহাজে করে আনতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ খাত টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি পলিসি সাপোর্টের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। সরকার মাতারবাড়ীতে একটি এলপিজি টার্মিনাল করলে প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ২৫-৩০ ডলার পর্যন্ত কমে আসবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার পুনঃভর্তি বন্ধ করতে হবে।’

সরকারকে দোষারোপ : সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়িত্বহীনতার কারণে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের আয়োজনে তিতাস গ্যাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির নেতারা এ কথা বলেন।

দলের নেতারা বলেন, একদিকে শ্রমজীবী মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, অন্যদিকে করপোরেট গোষ্ঠী ও আমদানিকারক পুঁজি বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। রাষ্ট্র যখন জনগণের ন্যূনতম জীবনযাপনের উপকরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই রাষ্ট্র তার সাংবিধানিক ও নৈতিক দায় এড়িয়ে যায়। বর্তমান গ্যাস সংকট সেই ব্যর্থতারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সিপিবি সভাপতি কমরেড সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘ইন্টেরিম সরকার জনগণের দুর্ভোগকে কোনো আমলেই নিচ্ছে না। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসা করছে। জনগণের দুর্ভোগকে এরা ব্যবসায় পরিণত করছে। আমরা মনে করি এটি একটি পরিকল্পিত সংকট। এই সিন্ডিকেট না ভাঙলে জনগণের ভাগ্যেও বদল হবে না।’





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *