ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান নামাজ। আর নামাজ শুদ্ধ হওয়ার প্রধান শর্তই পবিত্রতা। অর্থাৎ অজু। অজু ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, পবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর হারাম উপায়ে প্রাপ্ত মালের সাদকাও কবুল হয় না। (জামে তিরমিজি) এ ছাড়া অজুতে তাড়াহুড়া করাও ক্ষতিকর।
আল্লাহর ফরজ বিধান পালনে উদাসীনতা কাম্য নয়। কিন্তু বাস্তব সত্য এটাই যে, আমরা অধিকাংশ সময়ই পার্থিব কর্মব্যস্ততা সেরে সময়মতো মসজিদে উপস্থিত হতে পারি না। মসজিদে জামাত শেষ হয়, হচ্ছে এমন সময় তাড়াহুড়া করে জামাতে হাজির হই। তাড়াহুড়া করে কোনো মতে অজু সেরে জামাতে শরিক হই। এ তাড়াহুড়ার কারণে কোনো কোনো অঙ্গ শুকনোই থেকে যায় বা সম্পূর্ণ ধোয়া হয় না। ফলে অজু হয় অসম্পূর্ণ। অপূর্ণাঙ্গ। অপরিপূর্ণ অজু দিয়ে নামাজ আদায়কারীদের জন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে কঠিন শাস্তির ঘোষণা।
হজরত মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা.) আমাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। লোকেরা সে সময় পাত্র থেকে অজু করছিল। তখন তাকে বলতে শুনেছি, তোমরা উত্তমরূপে অজু করো। কারণ আবুল কাসিম (সা.) বলেছেন, পায়ের গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আজাব রয়েছে। (সহিহ বুখারি ১৬৫)
নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সব নামাজ, বিশেষ করে মধ্যবতী নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং আল্লাহর সামনে স্থির হয়ে দাঁড়াও।’ (সুরা বাকারা ২৩৮) অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা-১০৩)
আমরা যদি আয়াতে বর্ণিত নির্দেশ মেনে যথাসময়ে নামাজে যেতাম তাহলে অজুতে তাড়াহুড়া করতে হতো না এবং অসম্পূর্ণ অজু নিয়ে নামাজও পড়তে হতো না। আল্লাহতায়ালা আমাদের ধীরস্থিরে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ আদায়ের তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার
